দিল্লিতে একই পরিবারের তিন সদস্য খুন!
দিল্লির কারওয়াল নগরে ভয়াবহ এক ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা। এক যুবকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী এবং দুই কন্যাকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও শনিবার সকালে ফাঁস হয় সমস্ত ঘটনা, যখন প্রতিবেশীরা বাড়ির দরজা খুলে রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাড়ি থেকে এক মহিলা ও তার দুই শিশুকন্যার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যেকের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক নিখোঁজ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক অশান্তির জেরেই ঘটেছে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকেই ওই বাড়িতে উচ্চস্বরে ঝগড়ার আওয়াজ শুনেছিলেন প্রতিবেশীরা। তাঁদের একজন বলেন, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা চলত। কাল রাতে চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা গেলেও হঠাৎ করেই সব নিস্তব্ধ হয়ে যায়। সকালে ঘর থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে আমরা সন্দেহ করি।”
পরের দিন সকাল ৬টা নাগাদ প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। ভিতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজায় ধাক্কা দেন। তখন দরজা খুলে যায়। ঘরে ঢুকেই তাঁরা দেখেন, বিছানার ওপর পড়ে রয়েছে তিনটি নিথর দেহ—এক নারী ও দুটি শিশু। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে রক্ত।
ঘটনার পরেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য দেহগুলো পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পারিবারিক বিবাদ ছাড়াও, অন্য কোনও মোটিভ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অন্য সদস্য কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে খুনের কারণ বের করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেশীদের মতে, অভিযুক্ত যুবক পরিবার নিয়ে এখানে বেশ কয়েক বছর ধরেই থাকতেন। কিন্তু পারিবারিক জীবন মোটেও শান্ত ছিল না। স্ত্রী ও স্বামীর মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া লেগেই থাকত। এমনকী, একাধিকবার বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়িয়েছিল বলেও জানা যাচ্ছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তের মোবাইল বন্ধ। সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড সহ সমস্ত প্রযুক্তিগত বিষয় বিশ্লেষণ করে আমরা তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।”
এই মর্মান্তিক ঘটনা দিল্লি সহ গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অল্প বয়সি দুই শিশুর এভাবে অকালে প্রাণ হারানোয় শোকস্তব্ধ স্থানীয় মানুষজন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—পারিবারিক অশান্তি কি এতটাই ভয়ংকর হতে পারে, যা শেষমেশ এমন এক মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দেয়?
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের মুখোমুখি করা হবে। তবে এই ঘটনার আসল মোটিভ—পারিবারিক কলহ না কি এর পেছনে আরও কোনও গভীর কারণ—তা জানতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।
এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি, দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরিবারকে এমন ভয়াবহ পরিণতির শিকার হতে না হয়।