দিল্লিতে স্থায়ী কার্যালয় খুলছে ঋতব্রত শিবির!
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ঘিরে চলা রাজনৈতিক টানাপড়েন এবার পৌঁছে গেল রাজধানী দিল্লিতে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবার দিল্লিতে দলের স্থায়ী কার্যালয় খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের সূত্রপাত। দলের একাংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করে আলাদা শিবির গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অরূপ রায়কে। যদিও কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এই দাবিকে কোনও গুরুত্ব দিতে নারাজ এবং তাদের বক্তব্য, প্রকৃত দল এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে দিল্লিতে কোনও স্থায়ী দলীয় কার্যালয় ছিল না। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি বাংলো থেকেই দলীয় কাজ পরিচালিত হত। পরে মুকুল রায়ের সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন এবং তার পর রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের সরকারি বাসভবন কার্যত তৃণমূলের দিল্লি কার্যালয়ের ভূমিকা পালন করেছে। মাঝেমধ্যে অন্য সাংসদদের বাসভবন থেকেও দলীয় কাজ পরিচালিত হয়েছে, কিন্তু কোনও স্থায়ী অফিস গড়ে ওঠেনি।
এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে চাইছে ঋতব্রত শিবির। সূত্রের খবর, রাজধানীর কনট প্লেস এলাকায় ইতিমধ্যেই একটি জায়গা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেখানে দ্রুত দলীয় কার্যালয় চালু করার প্রস্তুতি চলছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের আগেই নতুন অফিসের উদ্বোধন হতে পারে।
এই বিষয়ে ঋতব্রত শিবিরের চেয়ারম্যান অরূপ রায় জানিয়েছেন, দিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ের জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে। তবে উদ্বোধনের নির্দিষ্ট দিন এখনও ঠিক হয়নি। খুব শীঘ্রই দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের নাম ও প্রতীক দাবি করার পাশাপাশি রাজধানীতে একটি স্থায়ী সাংগঠনিক উপস্থিতি তৈরি করা আইনি লড়াইয়েও ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। সেই কারণেই ঋতব্রত শিবিরের এই উদ্যোগকে শুধুমাত্র সাংগঠনিক সম্প্রসারণ নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, ঋতব্রতদের শিবির প্রকৃত তৃণমূল নয়। তাঁর অভিযোগ, তারা বিজেপির মদতেই রাজনীতি করছে এবং এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
দলের নাম, প্রতীক এবং সাংগঠনিক বৈধতা— এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত এখন আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে যেমন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে, তেমনই দিল্লিতে ঋতব্রত শিবিরের নতুন কার্যালয়ও আগামী দিনে এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?