‘আমি ডাক্তার হতে চাই না’ — নিটে ৯৯ পার্সেন্টাইল পাওয়া ছাত্রের মর্মান্তিক আত্মহত্যা, ভর্তি হওয়ার দিনেই মিলল দেহ

নিটে ৯৯ পার্সেন্টাইল পাওয়া ছাত্রের মর্মান্তিক আত্মহত্যা, ভর্তি হওয়ার দিনেই মিলল দেহ যে দিনের জন্য পরিবারের এত দিনের পরিশ্রম ও অপেক্ষা, সেই দিনটাই হয়ে উঠল এক পরিবারের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ…

September 24, 2025
1 min read

নিটে ৯৯ পার্সেন্টাইল পাওয়া ছাত্রের মর্মান্তিক আত্মহত্যা, ভর্তি হওয়ার দিনেই মিলল দেহ

যে দিনের জন্য পরিবারের এত দিনের পরিশ্রম ও অপেক্ষা, সেই দিনটাই হয়ে উঠল এক পরিবারের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। মঙ্গলবার এমবিবিএসে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল ১৯ বছরের অনুরাগ অনিল বরকরের। কিন্তু কলেজে যাওয়ার পরিবর্তে সেই দিনেই নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মিলল তাঁর নিথর দেহ। পাশে পড়ে ছিল একটি চিরকুট — তাতে লেখা মাত্র দুটি বাক্য, “আমি ডাক্তার হতে চাই না।”

মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার বাসিন্দা অনুরাগ এ বছর নিট ইউজি পরীক্ষায় অসাধারণ ফল করেছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ৯৯ পার্সেন্টাইল, যা বোঝায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই তাঁর থেকে কম বা সমান নম্বর পেয়েছেন। ওবিসি শ্রেণিতে তাঁর সর্বভারতীয় র‌্যাঙ্ক ছিল ১৪৭৫। এর ফলে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের একটি নামী মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবারই ছিল ভর্তি হওয়ার দিন।

সকালে গোরক্ষপুর রওনা হওয়ার কথা ছিল পরিবারের। বাবা-মা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, আর অনুরাগের ঘরে গিয়ে দেখেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা ভেঙে তাঁরা যা দেখেন, তা জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্ত। অনুরাগ সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে, সামনে টেবিলে রাখা চিঠিতে কেবল লেখা — “আমি ডাক্তার হতে চাই না।”

পরিবারের দাবি, অনুরাগ নিজে চিকিৎসক হতে চাননি, কিন্তু বাবা-মায়ের চাপে তিনি পরীক্ষায় বসেছিলেন। সেই চাপ এবং নিজের ইচ্ছার সঙ্গে না মেলা ভবিষ্যতের বোঝাই হয়তো তাঁকে এমন ভয়াবহ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গভীর হতাশা থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এই মেধাবী ছাত্র। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

অনুরাগের আত্মহত্যা এক কঠিন বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এল — সমাজ ও পরিবারের প্রত্যাশা অনেক সময় তরুণদের উপর এমন মানসিক চাপ তৈরি করে, যা সামলানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। একজন সন্তানের স্বপ্নকে বোঝার বদলে নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষা চাপিয়ে দেওয়ার ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই ঘটনা।

স্থানীয় সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, “শিক্ষা ও পেশা বেছে নেওয়ার অধিকার সন্তানের। বাবা-মায়ের ইচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সন্তানের ইচ্ছা ও মানসিক স্বাস্থ্য।” একই সঙ্গে মনোবিজ্ঞানীরাও বলছেন, শিশু ও কিশোরদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা, তাদের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে জোর না করা অত্যন্ত জরুরি।

অনুরাগের মতো এক প্রতিভাবান তরুণ, যিনি দেশের শীর্ষ এক শতাংশ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জায়গা পেয়েছিলেন, তাঁর জীবন যদি এভাবে থেমে যায়, তাহলে তা কেবল এক পরিবারের নয়, গোটা সমাজের জন্যই এক বিশাল ক্ষতি।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল — সফলতা শুধু র‌্যাঙ্ক বা নম্বরে মাপা যায় না। কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বপ্ন চাপিয়ে দিলে, সেই স্বপ্ন অনেক সময় দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে। অনুরাগের লেখা মাত্র তিনটি শব্দ — “আমি ডাক্তার হতে চাই না” — আমাদের শিক্ষা দেয়, সন্তানের ইচ্ছা বুঝে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

শব্দসংখ্যা: প্রায় ৫৪৪

ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *