‘দাম্ভিক, ফূর্তিবাজ, জুয়াড়ি— ট্রাম্প কুর্সির শেষ বিকল্প!’ প্রয়াত চার্লি মুঙ্গারের পুরনো মন্তব্য ঘিরে নতুন হইচই

ট্রাম্প কুর্সির শেষ বিকল্প!! ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক যেন কখনও থামে না। দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর একের পর এক সিদ্ধান্তে বিশ্ব রাজনীতি টালমাটাল। সামরিক অভিযান থেকে শুরু করে…

January 28, 2026
1 min read

ট্রাম্প কুর্সির শেষ বিকল্প!!

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক যেন কখনও থামে না। দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর একের পর এক সিদ্ধান্তে বিশ্ব রাজনীতি টালমাটাল। সামরিক অভিযান থেকে শুরু করে গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি, নেটোভুক্ত দেশগুলিকে শুল্কের হুমকি— সব মিলিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ট্রাম্প। ঠিক এই আবহেই নতুন করে সামনে এসেছে প্রয়াত রিপাবলিকান ধনকুবের চার্লি মুঙ্গারের পুরনো মন্তব্য, যা নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ওয়ারেন বাফেটের ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত চার্লি মুঙ্গার শুধু একজন সফল বিনিয়োগকারীই নন, ছিলেন স্পষ্টভাষী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকও। ২০১১ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য “শেষ বিকল্প” বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব ও নৈতিক অবস্থান হোয়াইট হাউসের জন্য মোটেই উপযুক্ত নয়।

মুঙ্গারের চোখে ট্রাম্প ছিলেন “দাম্ভিক, অতিরিক্ত ফূর্তিবাজ এবং ঝুঁকিপ্রবণ”— এমন একজন মানুষ যিনি ক্যাসিনো চালিয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনের ঠিক আগে মুঙ্গার স্পষ্ট বলেছিলেন, “যিনি জুয়া ব্যবসা করে ধনী হয়েছেন, তিনি নৈতিক ভাবে দেশের সর্বোচ্চ পদের জন্য যোগ্য নন।” এই মন্তব্য সেই সময়ও বিতর্ক তৈরি করেছিল, আজও তা সমান প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন অনেকে।

চার্লি মুঙ্গারের জীবনও কম ঘটনাবহুল ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বিমানবাহিনীতে কাজ করা এই মানুষটি পরে হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে সাফল্যের সঙ্গে পাশ করেন। এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েও দমে যাননি। বরং যুক্তিবাদী বিনিয়োগ দর্শনের মাধ্যমে ওয়ারেন বাফেটের সঙ্গে গড়ে তোলেন বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের সাফল্যের ভিত। আবেগ নয়, যুক্তি— এই দর্শনেই বিশ্বাস করতেন মুঙ্গার।

ট্রাম্পের বিষয়ে তাঁর আপত্তির মূল কারণ ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন। মুঙ্গার মনে করতেন, ট্রাম্প নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। সুদের হার, অভিবাসন নীতি বা বিদেশনীতি— সব ক্ষেত্রেই তাঁর আচরণে পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব দেখেছিলেন তিনি। এমনকি ফেডারেল রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টাও তাঁকে উদ্বিগ্ন করেছিল।

তবে মুঙ্গার একেবারে অনড় ছিলেন না। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি খানিকটা সুর বদলান। বলেন, “সব কিছু ভুল নয়। ও আমাদের মতো নয় বলেই হয়তো ভুল বোঝা হচ্ছে।” এমনকি ২০১৯ সালে অভিবাসন নীতির প্রশংসাও করেছিলেন। তবু তাঁর পুরনো মন্তব্য— ট্রাম্প নৈতিক ভাবে অযোগ্য— আজও সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

২০২৩ সালে ৯৯ বছর বয়সে চার্লি মুঙ্গারের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর এক বছরের মাথায় ট্রাম্প আবার ক্ষমতায়। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে মুঙ্গারের সেই পুরনো সতর্কবার্তা নতুন করে ভাবাচ্ছে বিশ্লেষকদের। ইতিহাস কি তবে নিজেকে আবার প্রমাণ করছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ওয়াশিংটন থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *