মধ্যস্থতাকারী দেশকে সাফ জানাল ইরান, পশ্চিম এশিয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে!
ইজ়রায়েলের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হানার পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান। এবং তারা এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে— প্রতিঘাত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও আলোচনার টেবিলে বসবে না তেহরান। রবিবার ওমান ও কাতারের মাধ্যমে এই বার্তা দিয়েছে ইরান, জানাচ্ছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। পশ্চিম এশিয়ায় এই উত্তেজনা যে আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
একতরফা হামলা, রক্তাক্ত দুই দেশ
গত শুক্রবার ইজ়রায়েল থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রে মৃত্যু হয় ইরানের শীর্ষ চার সেনাকর্তা ও ন’জন পরমাণু বিজ্ঞানীর। ধ্বংস হয় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাও। ইরান তখনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, এই হামলার জবাব তারা দেবে। সেই জবাব শুরু হয়েছে আগেই— জেরুসালেম ও তেল আভিভ লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তেহরান। অন্যদিকে, ইজ়রায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও পাল্টা হামলায় ব্যস্ত।
শান্তি নয়, এখন যুদ্ধই একমাত্র উত্তর
ওমান ও কাতার একপ্রকার আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল ইরানের কাছে। কিন্তু ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতক্ষণ না তারা প্রত্যাঘাত সম্পূর্ণ করছে, ততক্ষণ কোনও সংলাপে তারা আগ্রহী নয়। রয়টার্সকে এক ইরানি আধিকারিক বলেন, “এই মুহূর্তে সমঝোতার সময় নয়। আলোচনার আগে আমাদের জবাব শেষ হওয়া প্রয়োজন।”
মৃত্যু আর আতঙ্কে কাঁপছে দুই দেশের মাটি
ইজ়রায়েলের দাবি, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। তবু এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ইজ়রায়েলি নাগরিকের মৃত্যু স্বীকার করা হয়েছে। অপরদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, ইজ়রায়েলি হামলায় তাদের দেশে মৃত্যু হয়েছে ২২৪ জনের, যার মধ্যে ৯০ শতাংশই নিরীহ সাধারণ মানুষ।
পিছিয়ে গেল পারমাণবিক আলোচনা
এই সংঘাতের আবহে ওমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি পরমাণু চুক্তি বিষয়ক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা আপাতত বাতিল হয়েছে। আগের খবর ছিল, ইরান আমেরিকাকে মধ্যস্থতা করতে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু এখন ইরান নিজেই তা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, “আমরা কোনও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাই না। আমরা জানি, আমাদের কী করতে হবে।”
সংঘাতের শেষ কোথায়?
এই মুহূর্তে পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে কোনও দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। ইরান যে আরেকটি দেশের হস্তক্ষেপ না চাইতেই মধ্যস্থতাকারীদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তা যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢালারই নামান্তর।
এই পরিস্থিতিতে তেহরান ও তেল আভিভ— উভয় দেশের আকাশেই শুধু বোমা নয়, ঘনিয়ে আসছে আরও ভয়ানক ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও।