ট্রাম্পের ‘সুন্দর বিল’ কি আমেরিকাকে দেউলিয়া করবে?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘জনকল্যাণমূলক বিল’—যা তিনি নিজেই বলেছেন “বিগ বিউটিফুল বিল”—নিয়ে ফের বিতর্কে উত্তাল আমেরিকার রাজনীতি। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক। এই বিল নিয়ে আগেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে জানালেন, ‘‘এই বিল একেবারেই জঘন্য কাজ! এর পক্ষে যারা ভোট দিয়েছে, তারা নিজেরাও জানে ভুল করেছে।’’
মাস্কের তোপ, বিল ডেকে আনবে দেউলিয়া দশা!
মাস্কের মতে, বিলটি শুধু বাজেট ঘাটতিই বাড়াবে না, বরং দেশকে দেউলিয়া করে তুলতেও পারে। এক্স-এ আরও একটি পোস্টে মাস্ক বলেন, ‘‘কোনও বিল একসঙ্গে বড় এবং সুন্দর হতে পারে না। এটা আর্থিক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’’
যদিও মাস্ক সরাসরি ট্রাম্পের নাম নেননি, তবে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তাঁর টার্গেট মূলত ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় আলোড়ন, যার জবাবে মুখ খুলেছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের কড়া জবাব
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানেন মাস্ক কী ভাবছেন। তবে এই ধরনের মন্তব্যে প্রেসিডেন্টের মতামতে কোনও পরিবর্তন হবে না। তিনি তাঁর অবস্থানে অটল।”
মাস্ক কেন ক্ষুব্ধ?
সম্প্রতি মার্কিন সরকারের অধীন ‘গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি ডিপার্টমেন্ট’-এর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মাস্ক। এই দফতরের কাজ ছিল প্রশাসনের খরচ কমানো ও অর্থনৈতিক দক্ষতা নিশ্চিত করা। মাস্কের দাবি, তাঁদের এত দিনের কাজ এই একটি বিলেই ধুলিসাৎ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, “যে কাজ আমি আর আমার টিম এত দিন ধরে করেছি, এই বিল তা এক লহমায় শেষ করে দেবে।”
কী আছে ‘বিগ বিউটিফুল বিল’-এ?
১,১১৬ পাতার এই আইনে মূল জোর দেওয়া হয়েছে কর কাঠামো সংস্কারের ওপর। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা বা গ্রিন কার্ডধারী, অর্থাৎ মার্কিন নাগরিক নন এমন প্রবাসীদের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে।
- বিদেশে টাকা পাঠালে কর: প্রস্তাব অনুযায়ী, কেউ যদি আমেরিকায় উপার্জিত অর্থ নিজ দেশে পাঠাতে চান, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ৫% কর দিতে হবে।
- ছাড় নেই করের পরিমাণে: অর্থের পরিমাণ যাই হোক না কেন, কর প্রযোজ্য হবে।
- নাগরিকরা বাদ: শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকদের এই করের বাইরে রাখা হয়েছে।
মাস্ক বনাম ট্রাম্প—দূরত্ব আরও বাড়ল?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসময় ইলন মাস্ককে তাঁর প্রশাসনের ‘বিশেষ উপদেষ্টা’ করেছিলেন। মাস্কের জন্য তৈরি হয়েছিল আলাদা দফতরও। কিন্তু নতুন বিল নিয়েই সেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এবার এই আইন নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধে ফের সেই ফাটল স্পষ্ট হলো।
পাতিলেবু খেলে মাইগ্রেন কমে? ডাক্তাররা যা বলছেন ভাইরাল টোটকা নিয়ে