আমেরিকাকে ‘ক্ষয়িষ্ণু শক্তি’ বলল চিন, কিন্তু বাস্তব কি সত্যিই সেই কথা বলে?

আমেরিকাকে ‘ক্ষয়িষ্ণু শক্তি’ বলল চিন! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সম্প্রতি ‘ক্ষয়িষ্ণু শক্তি’ বলে কটাক্ষ করেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাঁর দাবি, আগামী দিনে অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি— দু’দিক থেকেই আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাবে…

June 3, 2026
1 min read

আমেরিকাকে ‘ক্ষয়িষ্ণু শক্তি’ বলল চিন!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সম্প্রতি ‘ক্ষয়িষ্ণু শক্তি’ বলে কটাক্ষ করেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাঁর দাবি, আগামী দিনে অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি— দু’দিক থেকেই আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাবে চিন। তবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ এই দাবির সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে, বাস্তবের পরিসংখ্যান এখনও স্পষ্ট ভাবে আমেরিকার পক্ষেই কথা বলছে।

বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি আমেরিকা। আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (IMF)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মার্কিন অর্থনীতির আকার ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। অন্য দিকে চিনের অর্থনীতি প্রায় ২১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

যদিও ক্রয়ক্ষমতার নিরিখে (PPP) চিন এগিয়ে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থায় এখনও ডলারই সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা। ইউয়ানকে বিশ্বমুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলেও সেই লক্ষ্য থেকে এখনও অনেক দূরে বেজিং।

চিনের অর্থনীতির সামনে আরও কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বহু বছর ধরে বিদেশি সংস্থার উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে সুবিধা পেয়েছে দেশটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বহু বহুজাতিক সংস্থা উৎপাদনের অংশ ভারত, ভিয়েতনাম এবং অন্যান্য দেশে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে চিনের শিল্পক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ জনসংখ্যা। টানা কয়েক বছর ধরে চিনে জন্মহার কমছে এবং জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধাক্কা খাবে। অনেকেই বলছেন, “ধনী হওয়ার আগেই বুড়ো হয়ে যাচ্ছে চিন।”

অন্য দিকে, অভিবাসীদের আকর্ষণ করার ক্ষমতা এখনও আমেরিকার বড় শক্তি। বিশ্বের নানা প্রান্তের মেধাবী মানুষ, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীরা এখনও যুক্তরাষ্ট্রকেই সুযোগের দেশ হিসেবে দেখেন। ফলে জনশক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আমেরিকা বড় সুবিধা ধরে রেখেছে।

সামরিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি প্রায় একই। প্রতিরক্ষা খাতে আমেরিকার ব্যয় চিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শত শত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। নেটো-সহ একাধিক শক্তিশালী জোটের নেতৃত্বও দেয় ওয়াশিংটন। বিপরীতে, বিদেশে চিনের সামরিক উপস্থিতি এখনও সীমিত।

নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে জাহাজের সংখ্যায় চিন এগোলেও, আমেরিকার ১১টি বিমানবাহী রণতরী তাকে বিশ্বজুড়ে দ্রুত শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ দেয়। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর প্রভাব— সব ক্ষেত্রেই এখনও যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে।

তাই অনেক বিশ্লেষকের মতে, আমেরিকার পতন খুব শিগগির ঘটবে— এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। চিন নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তি এবং তার উত্থান অব্যাহত রয়েছে। তবে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জনশক্তি ও সামরিক ক্ষমতার সামগ্রিক বিচারে আমেরিকাকে টপকে যাওয়ার পথ এখনও দীর্ঘ এবং কঠিন।

বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ হয়তো দুই শক্তির প্রতিযোগিতাতেই নির্ধারিত হবে, কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যান অন্তত বলছে— সুপারপাওয়ার হিসেবে আমেরিকার অবস্থান এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *