ট্রাম্পের নয়া শুল্কে চাপে ভারতীয় রফতানি, বিকল্প বাজার খুঁজছে নয়াদিল্লি

ট্রাম্পের নয়া শুল্কে চাপে ভারতীয় রফতানি! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির জেরে ভারতীয় রফতানি ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগতে চলেছে। বুধবার সকাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া ভারতীয় পণ্যে…

August 27, 2025
1 min read

ট্রাম্পের নয়া শুল্কে চাপে ভারতীয় রফতানি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির জেরে ভারতীয় রফতানি ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগতে চলেছে। বুধবার সকাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন রফতানিকারকরা, যাদের প্রধান বাজার আমেরিকা। নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই বুঝে গেছে, অন্তত এখনই মার্কিন শুল্ক থেকে কোনও ছাড় মিলবে না। তাই বিকল্প বাজারের সন্ধানে নেমেছে সরকার।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার নীতি। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভারত সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কিনে তা অন্যত্র বিক্রি করছে, যা রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়ন করছে। এই পদক্ষেপে ভারতের পরোক্ষ সমর্থন দেখছে ওয়াশিংটন। ফলে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা স্পষ্টভাবেই রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।

শুল্ক কার্যকর হওয়ার খবরেই ভারতের শেয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সেনসেক্স ও নিফটি ১ শতাংশ পতন হয়েছে, যা গত তিন মাসে অন্যতম বড় পতন। ব্যবসায়িক মহলে আশঙ্কা, আমেরিকায় ৮,৭০০ কোটি ডলার মূল্যের ভারতীয় রফতানির প্রায় ৫৫ শতাংশই প্রভাবিত হবে। ‘ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপোর্টস প্রমোশন কাউন্সিল’-এর সভাপতি পঙ্কজ চাড্ডা জানিয়েছেন, মার্কিন ক্রেতারা নতুন অর্ডার বন্ধ করেছেন এবং সেপ্টেম্বরে রফতানি ২০-৩০ শতাংশ কমতে পারে।

সরকারি সূত্রে খবর, ভারত অন্তত ৫০টি দেশকে বিকল্প বাজার হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে চিন, দক্ষিণ আমেরিকা এবং পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। বস্ত্র, সামুদ্রিক পণ্য, খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত ও চামড়ার ব্যবসাকে নতুন বাজারে প্রসারের পরিকল্পনা চলছে। তবে ব্যবসায়ীরা এখনও নিশ্চিত নন যে বিকল্প বাজার মার্কিন বাজারের সমতুল্য হবে কি না।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, যদি এই শুল্ক দীর্ঘমেয়াদি হয়, তবে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ০.৮ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং কর্পোরেট মুনাফায় বড় প্রভাব পড়বে। ফলে ভারত সরকার কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুরক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চিত। মার্কিন প্রশাসন ভারতের কৃষি, দুধ ও দুগ্ধজাত বাজারে প্রবেশাধিকারের দাবি তুললেও, নয়াদিল্লি আপাতত তাতে রাজি নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় কৃষকের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হবে না। এই প্রেক্ষাপটে মোদীর আসন্ন চিন সফরকে অনেকেই কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপোড়েন যেখানে নতুন বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের জন্ম দিচ্ছে, সেখানে নয়াদিল্লি বিকল্প কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথ খোঁজার দিকেই জোর দিচ্ছে।

দক্ষিণী স্বাদের অনন্য ভর্তা: এল্লু থুভৈয়াল, গরম ভাতে ঘি মেখে খেতে একেবারে স্বর্গীয়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *