ট্রাম্পের গল্ফ কোর্সে প্রাক্তন স্ত্রী ইভানার সমাধি!
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী ইভানা ট্রাম্পের মৃত্যু এবং তাঁর সমাধি ঘিরে ফের বিতর্ক তুঙ্গে। অনেকে বলছেন, এই সমাধির আড়ালে লুকিয়ে আছে আর্থিক লাভের অঙ্ক।
২০২২ সালের জুলাই মাসে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বাড়িতে সিঁড়ি থেকে পড়ে মারা যান ইভানা, বয়স হয়েছিল ৭৩। তৎকালীন সময়েই বিতর্ক শুরু হয়, যখন জানা যায় ইভানাকে কোনও সরকারি বা বেসরকারি সমাধিক্ষেত্রে নয়, বরং নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্পের নিজস্ব গল্ফ কোর্সের মধ্যেই সমাহিত করা হয়েছে।
ইভানার সমাধিটি আজও একেবারেই সাধারণ। নেই কোনও বেদি, চারপাশে নেই প্রাচীর বা সুরক্ষা ব্যবস্থা। ধূসর পাথরের একটি ফলকে লেখা রয়েছে তাঁর নাম, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ। ফুল রাখার স্থানটুকুই যতটুকু যত্ন।
এই ঘটনাকে প্রথমে কেউ কেউ ব্যক্তিগত পছন্দ বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করলেও, ক্রমশ সামনে আসতে শুরু করেছে আরও কিছু তথ্য, যেগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে ভিন্ন কিছুর। প্রশ্ন উঠছে—এই সমাধি কি শুধুই শ্রদ্ধার জায়গা, না কি এর আড়ালে রয়েছে কর ফাঁকির চতুর পরিকল্পনা?
নিউ জার্সির আইন অনুযায়ী, কোনও জমিকে সমাধিক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে, সেটি নানা ধরনের করের আওতার বাইরে চলে যায়—রিয়্যাল এস্টেট কর, ব্যবসায়িক কর, বিক্রয় কর, এমনকি আয়কর পর্যন্ত। সমালোচকদের মতে, এই নিয়মকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প নিজের গল্ফ কোর্সটিকে কার্যত করমুক্ত করতেই এখানে প্রাক্তন স্ত্রীকে সমাহিত করেছেন।
এই নিয়েই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে এক বিতর্কিত থ্রেড—”কেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইভানাকে গল্ফ কোর্সে কবর দিলেন? এটা শোক নয়, এটা পুরোপুরি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।”
অনেকেই বলছেন, গল্ফ কোর্সকে অলাভজনক সমাধিক্ষেত্র হিসেবে নথিভুক্ত করলে ট্রাম্প পরিবার কর ছাড়ের ব্যাপক সুবিধা পাবে। অতীতে ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, তিনি বেডমিনস্টারের এই শান্ত ভূমিতে নিজের সমাধি চান। এমনকি এক মামলায় তাঁর সংস্থা জানিয়েছিল, এখানে পারিবারিক সমাধিক্ষেত্র তৈরির পরিকল্পনাও ছিল, যেখানে ১০টি কবরের জায়গা রাখা হবে।
শুধু তাই নয়, এক হাজার কবরের জমি বিক্রির পরিকল্পনাও করছিল ট্রাম্পের সংস্থা—গল্ফ ক্লাবের সদস্যদের উদ্দেশে। এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পথ খুলে যায়।
হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০১৯ সালে ট্রাম্প এই গল্ফ কোর্সটিকে ‘খামার’ হিসেবে নিবন্ধন করেন—সেখানে কয়েকটি ছাগল এবং খড়ের ছাউনি রেখে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ডলার কর কমিয়েছিলেন। ৪৬২ ডলার প্রতি একর করের বদলে মাত্র ৬ ডলার কর দিতে হয় তাঁকে।
এ সব তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। যদিও তাঁর সংস্থার দাবি, এসব নিছক ষড়যন্ত্র এবং মর্যাদাহানির চেষ্টা।
তবে ইভানা নিজেও এক সময়ে বলেছিলেন, ট্রাম্পের কাছে সম্পর্ক, বিচ্ছেদ—সবই এক একটা ব্যবসায়িক চুক্তি। ট্রাম্পকে হার মানতে দেখেননি কেউ, এমনকি বিবাহবিচ্ছেদেও না।
আজ, সেই চুক্তিরই এক নতুন অধ্যায়—সমাধির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক বিতর্কিত লাভের অঙ্ক। সত্যি কী, তা সময়ই বলবে।