টাউন হলে ইতিহাসের ডিজিটাল ঠিকানা: কলকাতার স্মৃতিভান্ডার খুলে দিতে এগোচ্ছে পুরসভা

টাউন হলে ইতিহাসের ডিজিটাল ঠিকানা! কলকাতার ইতিহাস মানে শুধু ইট–পাথরের শহরের গল্প নয়, এই শহরের আত্মা, সংস্কৃতি আর দীর্ঘ লড়াইয়ের স্মৃতিচিহ্ন। ব্রিটিশ-পূর্ব সময় থেকে ইংরেজ শাসনের দিন, স্বাধীনতার আন্দোলন পেরিয়ে…

February 3, 2026
1 min read

টাউন হলে ইতিহাসের ডিজিটাল ঠিকানা!

কলকাতার ইতিহাস মানে শুধু ইট–পাথরের শহরের গল্প নয়, এই শহরের আত্মা, সংস্কৃতি আর দীর্ঘ লড়াইয়ের স্মৃতিচিহ্ন। ব্রিটিশ-পূর্ব সময় থেকে ইংরেজ শাসনের দিন, স্বাধীনতার আন্দোলন পেরিয়ে আধুনিক মহানগর হয়ে ওঠার প্রতিটি অধ্যায়ের সাক্ষী অজস্র নথি, ছবি ও দলিল সংরক্ষিত রয়েছে কলকাতা পুরসভার আর্কাইভে। এত দিন সেগুলি ছিল মূলত গবেষকদের নাগালের মধ্যে। এ বার সেই ঐতিহ্যশালী সংগ্রহ সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে দিতে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে কলকাতা পুরসভা।

টাউন হলে একটি আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল গ্রন্থাগার গড়ে তোলার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানাল পুরসভা। বৃহস্পতিবার পুরসভার মাসিক অধিবেশনে এই প্রস্তাব তোলেন ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্যের জবাবে মেয়র পারিষদ (সংস্কৃতি ও তথ্য) দেবাশিস কুমার জানান, এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞদের তৈরি একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে।

পুরসভার পরিকল্পনা অনুযায়ী, টাউন হলে তৈরি হওয়া এই ডিজিটাল গ্রন্থাগারে কলকাতা পুরসভার আর্কাইভে থাকা ডিজিটাইজ় করা নথির কপিগুলি সংরক্ষণ করা হবে। ফলে গবেষক, লেখক, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে ইতিহাসে আগ্রহী সাধারণ মানুষ— সকলেই সহজে এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করতে পারবেন।

অধিবেশনে অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে কলকাতার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু অমূল্য দলিল পুরসভার আর্কাইভে রয়েছে। তার অনেকটাই ইতিমধ্যে ডিজিটাল করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলি এখনও আর্কাইভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। টাউন হলে যদি এই ডিজিটাল সংগ্রহ রাখা যায়, তা হলে ইতিহাসচর্চার পরিসর অনেক বড় হবে।”

এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে দেবাশিস কুমার জানান, প্রকল্পের প্রযুক্তিগত রূপরেখা তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আইআইটি খড়্গপুরকে। শুধু প্রযুক্তিবিদ নয়, বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত একটি কমিটিও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী রিপোর্ট জমা পড়েছে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই রাজ্য সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে। বরাদ্দ মিললেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদী পুর প্রশাসন।

এই ডিজিটাল গ্রন্থাগার শুধু কলকাতা শহরের ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলার গান, থিয়েটার, সিনেমা, খেলাধুলো-সহ নানা সাংস্কৃতিক ধারার ইতিহাসকে আলাদা আলাদা বিভাগে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও উপস্থাপনার ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সহজে পৌঁছে যাবে বলে মনে করছে পুরসভা।

ইতিহাসকে শুধু সংরক্ষণ নয়, তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে টাউন হল হয়ে উঠতে পারে কলকাতার স্মৃতিভান্ডারের এক নতুন কেন্দ্র। অধিবেশনে উপস্থিত বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় ওঝাও পুরসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। পুর প্রশাসনের আশা, এই ডিজিটাল গ্রন্থাগার কলকাতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে এক শক্ত সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *