ডিজিটাল গ্রেফতারির আতঙ্কে কোটি টাকার প্রতারণা — অবশেষে পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত

ডিজিটাল গ্রেফতারির আতঙ্কে কোটি টাকার প্রতারণা! ডিজিটাল যুগে প্রতারণার কৌশল যত আধুনিক হচ্ছে, সাধারণ মানুষ ততই নতুন ফাঁদের মুখে পড়ছেন। ঠিক তেমনই এক ভয়ঙ্কর “ডিজিটাল গ্রেফতারি” চক্রের ঘটনায় কলকাতার এক…

February 18, 2026
1 min read

ডিজিটাল গ্রেফতারির আতঙ্কে কোটি টাকার প্রতারণা!

ডিজিটাল যুগে প্রতারণার কৌশল যত আধুনিক হচ্ছে, সাধারণ মানুষ ততই নতুন ফাঁদের মুখে পড়ছেন। ঠিক তেমনই এক ভয়ঙ্কর “ডিজিটাল গ্রেফতারি” চক্রের ঘটনায় কলকাতার এক দম্পতি হারিয়েছিলেন তিন কোটিরও বেশি টাকা। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে এই মামলায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে Kolkata Police-এর সাইবার শাখা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার মহম্মদ আমজাদ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তি সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে, যা ব্যবহার করে এই প্রতারণা চক্র পরিচালিত হত বলে মনে করছে পুলিশ।

কীভাবে ঘটেছিল প্রতারণা?

ঘটনাটি শুরু হয় গত বছরের অক্টোবরে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেহালার এক ব্যবসায়ীর কাছে প্রথমে একটি ফোন আসে। কলকারী নিজেকে একটি কুরিয়ার সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁর নামে পাঠানো একটি পার্সেল থেকে নাকি নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার হয়েছে। এরপর বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে Central Bureau of Investigation এবং Enforcement Directorate তদন্ত করছে।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকজন নিজেকে সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে ভিডিও কল করেন। ওই দম্পতিকে ‘গ্রেফতারের’ ভয় দেখানো হয় এবং তাঁদের ফোনের ক্যামেরা চালু রেখে ‘নজরদারিতে’ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভয় ও আতঙ্কে তাঁরা সেই নির্দেশ মেনে নেন।

ভিডিও কলে প্রতারকেরা ভুয়ো পরিচয়পত্র, সরকারি লোগো, এমনকি আইপিএস অফিসারের পরিচয় ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। শেষ পর্যন্ত দম্পতিকে বলা হয়— “টাকা দিলে মামলা থেকে রেহাই মিলবে, না হলে গ্রেফতার।”

এই ভয়াবহ চাপের মুখে পড়ে দম্পতি ধাপে ধাপে মোট তিন কোটি এক লক্ষ টাকা প্রতারকদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন।

কী কী উদ্ধার করল পুলিশ?

পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে দম্পতি সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত আমজাদকে গ্রেফতার করে। তাঁর আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে—

  • ১২টি সিম বক্স
  • ২,২৫০টি সিম কার্ড
  • ১৭টি মোবাইল ফোন
  • একটি ল্যাপটপ
  • ৯টি রাউটার
  • ওয়াইফাই যুক্ত সিসি ক্যামেরা
  • ল্যান ও কেবলসহ অন্যান্য প্রযুক্তি সরঞ্জাম

পুলিশের অনুমান, এই সরঞ্জাম ব্যবহার করেই বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণা চালানো হত।

কেন এই ধরনের প্রতারণা বাড়ছে?

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, “ডিজিটাল গ্রেফতারি” এখন দেশের অন্যতম দ্রুত বাড়তে থাকা প্রতারণার কৌশল। এতে অপরাধীরা সরকারি সংস্থার নাম ব্যবহার করে ভয় তৈরি করে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে—
কোনও সরকারি সংস্থা কখনও ভিডিও কলে গ্রেফতারি বা টাকা চায় না। এমন ফোন পেলে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে সাইবার হেল্পলাইনে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল— প্রযুক্তি যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি সচেতন না থাকলে সেটাই বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *