১ অগস্ট থেকে শুরু ডিজিটাল জনগণনার প্রথম ধাপ!
ভারতের জনগণনার ইতিহাসে এবার প্রথমবার যুক্ত হচ্ছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে চালু হচ্ছে স্ব-শুমারি (Self Enumeration), যার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজেদের তথ্য নিজেরাই অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে ১ অগস্ট থেকে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত নাগরিকেরা অনলাইনে নিজেদের প্রাথমিক তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর জন্য নির্দিষ্ট জনগণনা পোর্টালে প্রবেশ করে কয়েকটি ধাপ সম্পূর্ণ করতে হবে।
কী ভাবে করবেন স্ব-শুমারি?
প্রথমে সরকারি জনগণনা পোর্টালে লগ-ইন করতে হবে। সেখানে নিজের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নির্বাচন করতে হবে। এরপর ক্যাপচা পূরণ করে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম দিতে হবে। মোবাইল নম্বর ও ই-মেল আইডি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে দিলে পরবর্তী যোগাযোগ সহজ হবে।
এরপর নিজের পছন্দের ভাষা নির্বাচন করতে হবে। নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে, যা দিয়ে পরিচয় যাচাই করা হবে।
পরবর্তী ধাপে দিতে হবে জেলার নাম, পিন কোড, গ্রাম, শহর বা এলাকার তথ্য। তারপর ডিজিটাল মানচিত্রে নিজের বাড়ির অবস্থান চিহ্নিত করতে হবে।
এরপর হাউস লিস্টিং-এর তথ্য পূরণ করতে হবে। সব তথ্য জমা দেওয়ার আগে একটি প্রিভিউ স্ক্রিনে তা যাচাই করার সুযোগ থাকবে। সমস্ত তথ্য ঠিক থাকলে ‘ফাইনাল সাবমিট’ করলেই আবেদন সম্পূর্ণ হবে।
সফলভাবে তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি ১১ সংখ্যার ইউনিক ‘SE ID’ তৈরি হবে। পরে জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা বাড়িতে এলে এই নম্বর দেখাতে হবে। তথ্য যাচাইয়ের পর সেটি সরকারি সার্ভারে আপলোড করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে কী কী তথ্য নেওয়া হবে?
প্রথম ধাপে মূলত বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনা করা হবে। এর মধ্যে থাকবে—
- বাড়ির ধরন ও অবস্থা
- পরিবারের বৈশিষ্ট্য
- পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা
- বিদ্যুৎ সংযোগ
- রান্নার জ্বালানির ধরন
- ইন্টারনেট সুবিধা
- রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার
- দুই ও চার চাকার যানবাহন-সহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্য
এই পর্যায়ের সরকারি সমীক্ষা ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
দ্বিতীয় ধাপ কবে?
জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায় অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। সেই সময় প্রতিটি পরিবারের সদস্যের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি, ধর্মসহ জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
কলকাতায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শহরকে ৮,১১২টি গণনা ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাসিন্দার তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই ডিজিটাল জনগণনার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং স্বচ্ছ হবে বলে প্রশাসনের আশা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?