জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে থানায় মহুয়ার অভিযোগ!
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে তিনি এফআইআর দায়েরের আবেদন জানান। তবে পুলিশ আপাতত এফআইআর করেনি, সাধারণ অভিযোগপত্র হিসাবেই তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
থানা থেকে বেরিয়ে একটি ভিডিয়োবার্তায় মহুয়া দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচের বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। সেই কারণেই তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সরাসরি এফআইআর করা হচ্ছে না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
তবে মহুয়ার দাবি, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তিনি এনেছেন, তার ক্ষেত্রে ওই রক্ষাকবচ প্রযোজ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই সদস্য সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী একাধিক বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই আপত্তি উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে তার তদন্ত প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।
মহুয়ার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া। তিনি দাবি করেছেন, নতুন ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত প্রশ্ন যোগ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই পরিবর্তন নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সঁধু ও জোশী অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। নতুন ভোটার নথিভুক্তকরণ, ভোটার ডেটাবেস ব্যবস্থাপনা এবং নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও তাঁদের আপত্তির কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মহুয়া জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে জানিয়েছে, মতপার্থক্য বা অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কমিশনের দাবি, গত এক বছরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসাবেই নেওয়া হয়েছে।
ফলে মহুয়ার অভিযোগের পর এখন মূল প্রশ্ন, পুলিশ তাঁর অভিযোগ নিয়ে কী পদক্ষেপ করে এবং অভিযোগগুলি নিয়ে কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না। আপাতত এফআইআর দায়ের হয়নি—এটাই পুলিশের অবস্থান।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।