জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের নোটিস খারিজ সংসদে!
সংসদে বড় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট নোটিস শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে গেল। বিরোধী শিবিরের একজোট উদ্যোগ সত্ত্বেও, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণ এই নোটিস গ্রহণ করেননি।
এই প্রস্তাব ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। গত ১২ মার্চ সংসদের দুই কক্ষে একযোগে এই নোটিস জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন কোনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় প্রশ্ন উঠেছিল বিরোধীদের তরফে। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে নোটিস খারিজের সিদ্ধান্ত জানানো হল।
এই ইমপিচমেন্ট উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারির শুরুতে দলীয় বৈঠকে সাংসদদের এই বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। যদিও তৃণমূলের নিজস্ব সাংসদ সংখ্যা এই প্রস্তাব আনার জন্য যথেষ্ট ছিল না, তাই তারা অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সমর্থন চায়।
সেই ডাকে সাড়া দিয়ে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে-সহ একাধিক বিরোধী দল একজোট হয়। শেষ পর্যন্ত মোট ১৯৩ জন সাংসদ এই নোটিসে সই করেন—যার মধ্যে লোকসভা থেকে ১৩০ জন এবং রাজ্যসভা থেকে ৬০ জনের বেশি সদস্য ছিলেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের প্রস্তাব আনার জন্য ন্যূনতম ১০০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হয়, যা বিরোধীরা সহজেই জোগাড় করেছিল।
তবুও, সংসদের কোনও কক্ষেই এই নোটিস আলোচনার জন্য গৃহীত হয়নি। ফলে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই তা থমকে গেল।
বিরোধীদের অভিযোগের তালিকাও ছিল দীর্ঘ। শুধু পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগই নয়, জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পাশাপাশি, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-এর বিরুদ্ধে তাঁর মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। এমনকি ভোট পরিচালনায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে সংসদের স্পিকার ও চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, এত সংখ্যক সাংসদের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাব গ্রহণ না হওয়ায় বিরোধীদের কৌশল বড় ধাক্কা খেল।
তবে এই ইস্যু এখানেই শেষ হচ্ছে না বলেই ধারণা। বিরোধীরা ভবিষ্যতে অন্য পথে এই প্রশ্ন তুলে ধরতে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আবারও স্পষ্ট করল—সংসদের ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা জটিল এবং সংবেদনশীল।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না