জিমে যাওয়ার আগে সতর্কতা জরুরি!
\আজকের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শরীরচর্চা ও জিমে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছে। সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য এটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যায়াম যে কখনও কখনও প্রাণঘাতী হতে পারে, সে বিষয়ে সচেতনতা অনেকেরই কম। সাম্প্রতিক সময়ে জিমে ব্যায়ামের সময় হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক এবং মৃত্যুর বেশ কিছু খবর ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এই ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে চিকিৎসক মহলেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়াম শুরু করার আগে শরীরের বিশেষ করে হার্টের অবস্থা যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ অনেক সময়েই অজান্তেই কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন, এবং ব্যায়ামের সময় সেই অসুস্থতাই মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
কেন শরীরচর্চায় বাড়তে পারে ঝুঁকি?
ভারী ওজন তোলার মতো ব্যায়াম রক্তচাপকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। যদি কারও হৃদ্পিণ্ড দুর্বল হয় বা ধমনিতে আগে থেকেই ব্লক থাকে, তাহলে অতিরিক্ত চাপ হার্টে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এমনকি ব্যায়ামের মাঝেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে আগে থেকে হার্ট ডিজিজের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।
কোন কোন পরীক্ষা করানো উচিত জিমে ভর্তি হওয়ার আগে?
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, জিম শুরু করার আগে নীচের কয়েকটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো—
১. ইসিজি (ECG)
এই পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদ্পিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত বিশ্লেষণ করা হয়। এতে অনিয়মিত হার্টবিট, আরিদমিয়া বা হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি ধরা পড়ে।
২. ইকোকার্ডিয়োগ্রাফি (Echo)
হৃদ্পিণ্ডের গঠন ও কার্যকারিতা জানতে এই আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করা হয়। ধমনী বা ভাল্ভের সমস্যাও ধরা পড়ে এতে।
৩. ট্রেড মিল টেস্ট (TMT)
এই পরীক্ষায় ক্লায়েন্টকে দৌড়াতে বলা হয়, এবং ক্লান্ত অবস্থায় হার্ট কেমন কাজ করছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে ‘স্ট্রেস’-এ হার্টের আচরণ বোঝা যায়।
৪. রক্ত পরীক্ষা (Troponin ও NT-ProBNP)
এই পরীক্ষাগুলি হৃদ্পিণ্ডে কোনও ধরনের ক্ষতি বা চাপের ইঙ্গিত দেয়। হৃদরোগের আগাম চিহ্ন পেতে সাহায্য করে।
৫. লিপিড প্রোফাইল ও HbA1c
রক্তে কোলেস্টেরল এবং সুগারের পরিমাণ জানাতে সাহায্য করে। উচ্চ মাত্রায় থাকলে তা হার্টের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন
শরীরচর্চা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তার আগে নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন হওয়াও ততটাই জরুরি। মাত্রাছাড়া ব্যায়াম, প্রশিক্ষকের ভুল নির্দেশ বা শরীরের সীমা না বোঝা— এই সবকিছু মিলে ভয়ানক বিপদের কারণ হতে পারে।
তাই জিমে ভর্তি হওয়ার আগে এই পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চা শুরু করলেই আপনি থাকবেন অনেক বেশি নিরাপদ। আপনার শরীর আপনি বোঝেন, তাই আগে জানুন নিজের হৃদ্পিণ্ড ঠিক আছে কি না, তার পরে তবেই শুরু করুন ওয়েট ট্রেনিং বা ইনটেন্স কার্ডিও।
মায়ের কঠোর আদেশ থেকে শুরু করে ছোট ছোট টাস্ক, কন্যা পলককে বড় করতে যা করেছেন শ্বেতা তিওয়ারি