জিমে গেলেও ওজন কমছে না?
বাড়তি ওজন কমাতে অনেকে দিনরাত জিমে ব্যস্ত থাকেন। তবু অনেকের ফলাফল ততটা সন্তোষজনক হয় না। কেন এমন হচ্ছে? এই রহস্য উন্মোচন করলেন বলিউড অভিনেতা রণবীর কপূরের ফিটনেস ট্রেনার শিবহম ভট্ট। তিনি জানান, জিমে গিয়ে ওজন কমাতে গিয়ে আমরা প্রায়ই কয়েকটি সাধারণ ভুল করি, যা ফলপ্রসূ হতে বাধা দেয়।
শিবহম জানান, “আপনি যদি জিমে যান, তখন দেখতে পাবেন অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে একই ধরণের ওয়ার্কআউট করছেন। তাঁরা পরিবর্তন চান, কিন্তু ঠিক কীভাবে করতে হবে তা জানেন না।” রণবীরকে ‘অ্যানিম্যাল’ ছবির জন্য সুঠাম দেহ গঠনে সাহায্য করেছিলেন শিবহম। তাঁর মতে, জিমে ওজন কমানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা উচিত।
১) ওজনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া: অনেকেই প্রতিদিন একই ওজন নিয়ে ব্যায়াম করেন। দেহের পরিবর্তন আনার জন্য অবশ্যই ধীরে ধীরে ওজন বাড়ানো উচিত। যেমন—প্রতিদিন একই হালকা ডাম্বেল ব্যবহার করলে পেশি শক্ত হবে না।
২) একই রেপ পুনরাবৃত্তি: প্রতিদিন একই সংখ্যক রেপ করা পেশির উন্নতির জন্য যথেষ্ট নয়। প্রথম সপ্তাহে যদি ১০ বার বাইসেপ কার্ল করেন, পরবর্তী সপ্তাহে সেটা ১২ বার করা উচিত। ছোট ছোট পরিবর্তন পেশিকে চ্যালেঞ্জ দেয় এবং ফলাফল দেয়।
৩) পেশিকে টেনশনে রাখা: যত বেশি পেশিকে টেনশনে রাখা যায়, তত দ্রুত ও বেশি বৃদ্ধি হয়। তাই হুট করে দ্রুত করার বদলে প্রতিটি সেট ধীরে ধীরে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এতে পেশি নিয়োগ এবং ব্যায়ামের সময় বৃদ্ধি পায়।
৪) গতির বৈচিত্র্য: ওজন তোলার ক্ষেত্রে শুধু স্থিতিশীল গতি নয়, সময়ের সঙ্গে গতি কমানো বা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। একই ওজন এবং ভিন্ন গতি দিয়ে ব্যায়াম করলে পেশি আরও কার্যকরভাবে বৃদ্ধি পায়।
৫) বিশ্রামের প্রয়োজন: প্রতিটি সেটের মধ্যে এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দিলে ওজন কমবে না, বরং চোটের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
শিবহমের এই পাঁচটি টিপস অনুসরণ করলে শুধু ওজন কমানো নয়, দেহের পেশি গঠনও আরও কার্যকর হবে। তিনি আরও বলেন, “ক্লান্ত শরীর নিয়ে শুধু জিমে ঢুকলেই হবে না, সঠিক পদ্ধতি, ধৈর্য এবং নিয়মিত পরিবর্তন জরুরি।”
সুতরাং, জিমে যাওয়া মানেই ওজন কমবে—এটা সত্যি নয়। মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং দেহের সাথে খাপ খাইয়ে ব্যায়াম করা। রণবীরের মতো সুঠাম দেহ গঠনের পেছনে যেটা কাজ করে, তা হলো শুধু পরিশ্রম নয়, পরিকল্পিত এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে করা ওয়ার্কআউট।