জিমে ঘাম ঝরলেই কি গলবে মেদ?
জিমে গিয়ে শরীর ঘামে ভিজে গেলেই কি দ্রুত মেদ ঝরছে? অনেকের মধ্যেই এমন ধারণা রয়েছে—যত বেশি ঘাম, তত বেশি ক্যালোরি খরচ এবং তত দ্রুত ওজন কমবে। কিন্তু এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। ঘাম হওয়া মূলত শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, মেদ ঝরার সরাসরি মাপকাঠি নয়।
নিউ ইয়র্কের ফিটনেস প্রশিক্ষক শাডোয় লিওনের মতে, ব্যায়ামের সময় ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। তবে পরিবেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, পোশাক এবং ব্যক্তিভেদে ঘামের পরিমাণ আলাদা হতে পারে। তাই বেশি ঘামছেন মানেই বেশি চর্বি ঝরছে—এমনটা বলা যায় না।
বরং অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে জল কমে গিয়ে সাময়িক ভাবে ওজন কম দেখাতে পারে। ব্যায়ামের পর দাঁড়িপাল্লায় কম ওজন দেখালেই সেটিকে মেদ কমা বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বেশি ব্যায়াম করলেই কি বেশি ক্যালোরি ঝরবে?
অনেকে বেশি খাওয়ার পর অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়িয়ে ফেলতে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করেন। কিন্তু শরীরকে ক্লান্ত বা বিধ্বস্ত করে ফেলার মতো অতিরিক্ত শরীরচর্চা সবসময় উপকারী নয়। এক দিনে অত্যধিক ব্যায়ামের পরিবর্তে নিয়মিত এবং ধারাবাহিক শরীরচর্চাই বেশি কার্যকর।
শরীরচর্চার ফল বোঝার জন্য শুধু ঘাম বা ওজনের দিকে না তাকিয়ে পেশির শক্তি, দৈহিক গঠনের পরিবর্তন এবং সামগ্রিক ফিটনেসের উন্নতির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ওজন কমাতে কী কী জরুরি?
ক্যালোরির ঘাটতি: ওজন কমাতে সাধারণত শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম ক্যালোরি গ্রহণ করতে হয়। তবে খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ থাকা জরুরি।
পর্যাপ্ত প্রোটিন: শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন না খেলে চর্বির সঙ্গে পেশিও কমতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের দিকে নজর রাখা দরকার।
সারা দিন সক্রিয় থাকা: শুধু এক ঘণ্টা জিম করে বাকি সময় বসে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। হাঁটাচলা-সহ দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানো উপকারী।
পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের পুনরুদ্ধার এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের ঘাটতি মানসিক চাপ ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, শরীরচর্চার সাফল্য মাপতে কতটা ঘাম হল, সেটিকে মানদণ্ড না করে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক উন্নতির দিকে নজর দেওয়া উচিত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।