বিশেষ ধরনের গান আর গাইবেন না শ্রেয়া ঘোষাল!
ভারতের জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকাদের মধ্যে অন্যতম Shreya Ghoshal। গত দুই দশকে অসংখ্য সুপারহিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও মিষ্টি রোম্যান্টিক সুর, কখনও আবার শক্তিশালী নাচের গান—সব ধরনের গানেই তিনি নিজের কণ্ঠের জাদু ছড়িয়ে দিয়েছেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন গায়িকা। ভবিষ্যতে তিনি আর নির্দিষ্ট ধরনের কিছু গান গাইবেন না।
এই ঘোষণার খবর সামনে আসতেই অনেকের মনে পড়েছে আরেক জনপ্রিয় শিল্পী Arijit Singh-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথা। বছর শুরুর দিকে তিনিও জানিয়েছিলেন যে তিনি সিনেমায় প্লেব্যাক নিয়ে নিজের কাজের ধরনে পরিবর্তন আনতে চান। সেই ঘটনার পর এবার শ্রেয়াও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
‘চিকনি চামেলি’ থেকে নতুন উপলব্ধি
শ্রেয়ার গাওয়া সবচেয়ে আলোচিত গানের মধ্যে রয়েছে Mere Dholna এবং Chikni Chameli। বিশেষ করে ‘চিকনি চামেলি’ গানটি মুক্তির পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। Katrina Kaif-এর নাচে ছবিতে ব্যবহৃত এই গান দ্রুতই চার্টবাস্টার হয়ে ওঠে।
তবে শ্রেয়া জানিয়েছেন, এই গান গাওয়ার সময় তাঁর কোনও অস্বস্তি হয়নি। বরং তখন তিনি এটিকে একটি মজার ও প্রাণবন্ত গান হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি গানের কথার গভীরতা ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে আরও সচেতন হয়েছেন।
গায়িকার কথায়, ওই গান জনপ্রিয় হওয়ার পরে তাঁর কাছে অনেক অনুরূপ গানের প্রস্তাব আসে। কিন্তু সেগুলির অনেকগুলিতেই মহিলাদের ‘অবজেক্টিফাই’ করা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। অর্থাৎ গানের ভাষা বা ভাবনায় নারীদের অসম্মান করার ইঙ্গিত ছিল। তাই সেই সব প্রস্তাব তিনি সরাসরি ফিরিয়ে দেন।
এক গানের লাইনেই সিদ্ধান্ত
শ্রেয়া একটি ঘটনার কথাও শেয়ার করেন। তাঁর এক গীতিকার বন্ধু নাকি এমন একটি গান শোনান, যার একটি লাইনে ছিল—“আমাকে চিকেন বানিয়ে খেয়ে নাও।” সেই কথাটি শুনেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে এ ধরনের গান আর করবেন না।
তিনি জানান, এখন তিনি গানের কথা খুব ভালো করে বুঝে তবেই কোনও কাজ গ্রহণ করেন। কারণ একটি গান জনপ্রিয় হয়ে গেলে তা শুধু সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না—মঞ্চে, লাইভ কনসার্টে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বারবার গাইতে হয়।
মঞ্চে গাইবেন, কিন্তু নতুন করে রেকর্ড নয়
এই প্রসঙ্গে শ্রেয়া আরও বলেন, ‘চিকনি চামেলি’ গানটি তিনি মঞ্চে অনেকবার গেয়েছেন এবং দর্শকও সেটি খুব পছন্দ করেন। তবে ভবিষ্যতে তিনি এই ধরনের গান নতুন করে রেকর্ড করতে চান না।
তার মতে, অনেক সময় অনুষ্ঠানে শিশু ও পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থাকেন। সেই পরিবেশে আপত্তিকর বা দ্ব্যর্থবোধক কথার গান গাইতে তাঁর অস্বস্তি হয়।
সচেতন শিল্পীর নতুন পথ
শ্রেয়ার এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং একজন শিল্পীর সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ। দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীতজগতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছেন—গান শুধু বিনোদন নয়, তা মানুষের চিন্তাভাবনাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
তাই ভবিষ্যতে তিনি এমন গানই বেছে নিতে চান, যা সুরে সুন্দর, কথায় মর্যাদাপূর্ণ এবং শ্রোতাদের কাছে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো হয়ে ওঠে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?