‘টক্সিক’ শুটিংয়ের ফাঁকে অনাগত সন্তানকে কী বলতেন কিয়ারা?
চলতি বছরের ১৫ জুলাই মা হয়েছেন কিয়ারা আডবাণী। কিন্তু মাতৃত্বের সেই অধ্যায় শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে— গর্ভাবস্থার প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্তে। কাজ, আলো, ক্যামেরা আর ব্যস্ততার মাঝেও তাঁর ভাবনার কেন্দ্রে ছিল অনাগত কন্যা সরায়াহ। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শুটিং চালিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিত হওয়া— সবটাই সামলেছেন এক অনন্য মানসিক শক্তি নিয়ে।
গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে এসে মেট গালার মতো ঝলমলে অনুষ্ঠানে স্ফীতোদর নিয়ে হাজির হয়েছিলেন কিয়ারা। সে সময় তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং স্বাভাবিক উপস্থিতি অনেককেই অনুপ্রাণিত করেছিল। কিন্তু পর্দার আড়ালে সেই সময়টা মোটেও সহজ ছিল না, তা নিজেই স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী।
মেয়ের জন্মের পর মুক্তি পেয়েছে তাঁর ছবি ‘ওয়ার ২’। তবে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই তিনি শুরু করেছিলেন দক্ষিণী তারকা যশের সঙ্গে অ্যাকশন ছবি ‘টক্সিক’-এর শুটিং। ড্রাগ মাফিয়াদের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিতে তাঁর চরিত্র ছিল আবেগপ্রবণ এবং তীব্র। এমন দৃশ্যেও অভিনয় করতে হয়েছে, যেখানে বারবার চোখে জল এসে যেত।
কিয়ারা জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময় আবেগে ভেসে যেতেন অনেকবার। কিন্তু ক্যামেরা বন্ধ হলে তিনি ভ্যানিটি ভ্যানে ফিরে যেতেন একেবারে অন্য ভূমিকায়— একজন মা হিসেবে। পেটের উপর হাত রেখে মেয়ের সঙ্গে কথা বলতেন। তাঁর কথায়, “আমি ওকে বলতাম, ভয় পেয়ো না। মা একদম ঠিক আছে। এটা সব অভিনয়, ক্যামেরার জন্য। বাস্তবে কোনও কষ্ট নেই।” সেই কথোপকথনেই যেন নিজেকেও শান্ত করতেন তিনি।
এই সময়টায় কিয়ারা বিশ্বাস করতেন, মায়ের মানসিক অবস্থা সন্তানের উপর প্রভাব ফেলে। তাই যতই কঠিন দৃশ্য হোক না কেন, নিজের ভিতরের ভয় বা অস্থিরতা মেয়ের কাছে পৌঁছতে দেননি। বরং ভালোবাসা আর আশ্বাসেই ভরিয়ে রেখেছেন সেই সময়গুলো।
মেয়ের জন্মের পর কিয়ারার জীবন যেন আরও নতুন রঙে ভরে উঠেছে। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, সন্তানকে স্নান করানো, ঘুম পাড়ানো, তার ছোট ছোট অভ্যাস— সব কিছুই তিনি দারুণ উপভোগ করছেন। মাতৃত্ব তাঁকে ক্লান্ত করেনি, বরং আরও পরিপূর্ণ করেছে।
কাজের দিক থেকেও খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি বলে জানান কিয়ারা। পরিবার এবং সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, মা হওয়া মানেই নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলা নয়— বরং নতুন শক্তি নিয়ে ফিরে আসা।
অন্য দিকে, ‘টক্সিক’ ছবিটি ঘিরে দর্শকদের উত্তেজনাও তুঙ্গে। নির্মাতারা সম্প্রতি একটি বিবৃতি দিয়ে অনুরাগীদের অনুরোধ করেছেন, অনুমানের ভিত্তিতে কোনও তথ্য ছড়াতে না। যশকে ঘিরে উন্মাদনা থাকলেও ছবিটি নিয়ে ধৈর্য ধরার বার্তাই দিয়েছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে কিয়ারার এই যাত্রা শুধু একজন অভিনেত্রীর নয়— এক নারীর, এক মায়ের। ক্যামেরার সামনে শক্ত চরিত্র, আর ক্যামেরার বাইরে সন্তানের জন্য নরম আশ্বাস— এই দুইয়ের ভারসাম্যই যেন আজকের কিয়ারা আডবাণী।