ক্যামেরার আড়ালের ভাঙা মন: বাড়ির সামনে স্লোগানে কেন ভেঙে পড়েছিলেন শ্রদ্ধা কপূর

ক্যামেরার আড়ালের ভাঙা মন! রুপোলি পর্দায় সব সময় হাসিমুখে, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি— শ্রদ্ধা কপূরকে আমরা সাধারণত এই রূপেই দেখি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তিনি বরাবরই নীরব থাকতে ভালোবাসেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নয়, বরং…

February 5, 2026
0 min read

ক্যামেরার আড়ালের ভাঙা মন!

রুপোলি পর্দায় সব সময় হাসিমুখে, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি— শ্রদ্ধা কপূরকে আমরা সাধারণত এই রূপেই দেখি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তিনি বরাবরই নীরব থাকতে ভালোবাসেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নয়, বরং নিজের মতো করে জীবন কাটানোতেই তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু কিছু পরিস্থিতি এমন হয়, যেখানে গোপনীয়তা চাইলেও রক্ষা করা যায় না। ঠিক তেমনই এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন শ্রদ্ধা, যা তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল।

ঘটনাটি ২০২২ সালের। সেই সময় বেঙ্গালুরু থেকে শ্রদ্ধার ভাই সিদ্ধান্ত কপূরকে একটি মাদক মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শক্তি কপূরের বাড়ির সামনে প্রতিদিন জমতে থাকে ভিড়। সংবাদমাধ্যম, কৌতূহলী মানুষ— সব মিলিয়ে বাড়ির বাইরের পরিস্থিতি ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। সেই ভিড়ের মধ্যেই যোগ দেয় এক রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। তাঁরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিষয়টি যে কতটা আতঙ্কের ছিল, তা সহজেই অনুমেয়।

এই ঘটনার কথা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছেন শ্রদ্ধার মাসি, অভিনেত্রী তেজস্বিনী কোলহাপুরী। তাঁর কথায়, ওই পরিস্থিতি শ্রদ্ধার জন্য ছিল ভয়াবহ মানসিক চাপের। বাড়ির নিচে চিৎকার, স্লোগান, অচেনা মানুষের ভিড়— সব মিলিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন অভিনেত্রী। তেজস্বিনীর দাবি, সেই সময় ঘরের ভেতর হাউ হাউ করে কেঁদেছিলেন শ্রদ্ধা। বাইরে যা ঘটছিল, তার কোনও নিয়ন্ত্রণই ছিল না তাঁর হাতে।

তেজস্বিনী কোলহাপুরী আরও জানান, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদৌ সঠিক ছিল না। “সিদ্ধান্ত আসলে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিল,” বলেন তিনি। পেশায় ডিজে হওয়ায় বিভিন্ন ক্লাব ও পানশালায় যাতায়াত ছিল তাঁর স্বাভাবিক কাজের অংশ। তার উপর কপূর পরিবারের সদস্য হওয়ায় সহজেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল বলে মত তাঁর মাসির। পরে তদন্তে সিদ্ধান্ত নির্দোষ প্রমাণিত হন। কিন্তু তত দিনে যে ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে গিয়েছিল।

এই ভুল বোঝাবুঝি এবং লাগাতার হেনস্থার প্রভাব পড়ে দুই ভাইবোনের উপরেই। শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে সেই ধাক্কা ছিল আরও গভীর। বাইরে থেকে তিনি যতই শক্ত থাকুন না কেন, ভিতরে ভিতরে সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে আহত করেছিল। মাসির দাবি, ভাইকে ঘিরে তৈরি হওয়া সেই পরিস্থিতি শ্রদ্ধার মনে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে দেয়।

ঝলমলে তারকাজীবনের আড়ালেও যে ভয়, অনিশ্চয়তা আর অসহায়তা লুকিয়ে থাকে, শ্রদ্ধা কপূরের এই অভিজ্ঞতা তারই প্রমাণ। আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোরও যে নিভৃতে কাঁদার মুহূর্ত আসে, তা হয়তো এই গল্প আমাদের আবার মনে করিয়ে দেয়।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *