অধিনায়কত্বের দ্বিতীয় ইনিংসে বদলাচ্ছেন ইংল্যান্ডের সংস্কৃতি!
বেন স্টোকসের পর ফের ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের নেতৃত্বে জো রুট। দায়িত্ব নিয়েই কড়া নিয়মের বদলে সতীর্থদের পরিণতিবোধের উপর আস্থা রাখার বার্তা দিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ় দিয়েই শুরু হবে রুটের নেতৃত্বের দ্বিতীয় অধ্যায়।
ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের নতুন অধিনায়ক জো রুট। বেন স্টোকসের অবসরের পর আবার তাঁর কাঁধেই নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে ইংল্যান্ড। দায়িত্ব পেয়েই দলের উপর থেকে রাতের কারফিউ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রুট। তাঁর বক্তব্য, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা ক্রিকেটারেরা যথেষ্ট পরিণত এবং মাঠের বাইরে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে তাঁদের সচেতন থাকা উচিত।
নিউ জ়িল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ় চলাকালীন মদ্যপান ঘিরে বিতর্কে জড়িয়েছিল ইংল্যান্ড দল। সেই ঘটনার পর ক্রিকেটারদের উপর কারফিউ জারি করা হয়েছিল। এ বার সেই কঠোর ব্যবস্থা আর রাখতে চাইছেন না রুট।
স্টোকসের বিতর্কের পর বদল ইংল্যান্ডে
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে মদ্যপান নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং গাস অ্যাটকিনসন। দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি স্টোকস। পরে তৃতীয় টেস্টে ফিরলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং দলের ক্রিকেটারদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণে কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালামকেও সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন স্টিফেন ফ্লেমিং। সেই পরিবর্তনের মধ্যেই আবার রুটকে অধিনায়ক করা হয়েছে।
‘কারফিউ জারি করার প্রয়োজন নেই’
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ়ের আগে রুট স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণ করার পথে হাঁটতে চান না তিনি।
রুটের মতে, মাঠে দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও পরিণত আচরণ করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা—ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা ক্রিকেটারেরা জানেন তাঁদের কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়।
নৈশক্লাবে যাওয়া বা মদ্যপানের উপরও কোনও নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চান না রুট। তবে ক্রিকেটারদের নিজেদের সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, জয় উদ্যাপনেরও নির্দিষ্ট সময় ও পরিস্থিতি রয়েছে।
সতীর্থদের বার্তা রুটের
রুট সতীর্থদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব তাঁদের নিজেদেরই বুঝতে হবে। মাঠের বাইরে কোনও বিতর্ক তৈরি না করার দায়িত্বও দলের প্রত্যেক সদস্যের।
একই সঙ্গে সতীর্থদের পরস্পরের খেয়াল রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য শুধু মাঠে ভাল ফল করা নয়, বরং দলের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংস্কৃতিও তৈরি করা।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৯ অগস্ট। তার আগে কোচ ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দলের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে চান রুট। নেতৃত্বের দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর মূল লক্ষ্য, মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ইংল্যান্ড দলের সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
রুটের প্রথম ইনিংসের স্মৃতিও জড়িয়ে
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসাবে রুটের প্রথম দফাতেও মদ্যপান নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। ২০১৭-১৮ মরসুমের অ্যাশেজ় সিরিজ়ে সেই বিতর্কের পর ইংল্যান্ড দলে কারফিউ চালু করা হয়েছিল, যা ২০২২ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল।
এ বার দ্বিতীয় বার নেতৃত্বে ফিরে রুট সেই পুরনো পথ থেকে সরে এসে সতীর্থদের উপর আস্থা রাখতেই বেশি আগ্রহী। তাঁর বার্তা পরিষ্কার—নিয়মের ভয় নয়, দায়িত্ববোধ থেকেই তৈরি হোক নতুন ইংল্যান্ড দল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।