দুরন্ত দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের দাপট!
আট বছর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ইংল্যান্ডের। সেই স্মৃতি যেন ভুলিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই বুধবার ডালাসে মাঠে নেমেছিল তারা। চার গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিল, এই বিশ্বকাপে তাদের হালকা ভাবে দেখার ভুল করলে যে কোনও দলকেই সমস্যায় পড়তে হবে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই সমানে সমানে লড়াই করেছে। কিন্তু বিরতির পর ইংল্যান্ডের ফুটবল যেন অন্য মাত্রা নেয়। আক্রমণের গতি, বল দখল এবং সুযোগ তৈরি—সব ক্ষেত্রেই তারা ক্রোয়েশিয়াকে পিছনে ফেলে দেয়। তরুণ দল নিয়েও ক্রোয়েশিয়া লড়াই করেছে, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের ডুবিয়েছে দুর্বল রক্ষণ।
ইংল্যান্ড ৪ (হ্যারি কেন ২, জুড বেলিংহ্যাম, মার্কাস রাশফোর্ড)
ক্রোয়েশিয়া ২ (মার্তিন বাতুরিনা, পেতার মুসা)
এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত বেশির ভাগ বড় তারকাই নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। নজর ছিল ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের দিকেও। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মরসুম কাটানোর পর দেশের জার্সিতেও নিজের ছাপ রাখলেন তিনি। জোড়া গোল করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দিলেন কেন।
ডালাসের ম্যাচে প্রথমার্ধেই আসে চারটি গোল। দু’বার পিছিয়ে পড়েও সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে তারা আর দাঁড়াতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। বক্সের মধ্যে নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করেন লুকা মদ্রিচ। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। কেনের প্রথম শট দুর্দান্তভাবে আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডোমিনিক লিভাকোভিচ। তবে পরে দেখা যায়, শট নেওয়ার আগেই গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। ফলে পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি কেন।
এর পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় ইংল্যান্ডের হাতে। যদিও ক্রোয়েশিয়া হাল ছাড়েনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে দুর্দান্ত গোল করেন মার্তিন বাতুরিনা। পেতার সুসিচের নিখুঁত পাসের পর বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে গোল করেন তিনি।
কিন্তু ইংল্যান্ডের আক্রমণ থামানো যায়নি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার গোল করেন কেন। ডেক্লান রাইসের কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান তিনি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ১০ গোল করে গ্যারি লিনেকারের সঙ্গে একই সারিতে পৌঁছে গেলেন কেন।
ক্রোয়েশিয়াও দ্রুত জবাব দেয়। ইভান পেরিসিচের পাস থেকে পেতার মুসা গোল করে ফের ব্যবধান কমান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা বদলে যায়। বিরতির মাত্র দুই মিনিট পর একক দক্ষতায় গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। ডান দিক থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করেন তিনি।
এর পর ইংল্যান্ডের আক্রমণের সামনে ক্রোয়েশিয়া কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল ইংল্যান্ড, যদিও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট হয়। শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়া কিছুটা পাল্টা চাপ তৈরি করলেও নিজেদের ভুলেই গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। উল্টে পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করেন মার্কাস রাশফোর্ড। বুকায়ো সাকার নিখুঁত পাস কাজে লাগান তিনি।
অন্য দিকে, এই ম্যাচে আলোচনায় থেকেছেন লুকা মদ্রিচও। বয়সের ছাপ কি এবার তাঁর খেলায় পড়তে শুরু করেছে? ৪০ বছর বয়সি এই তারকা আগের মতো দৌড় বা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষমতা দেখাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হয় ক্রোয়েশিয়া। একই দিনে ৪১ বছরের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পর মদ্রিচকেও কি এবার নতুন ভূমিকায় ভাবার সময় এসেছে—সেই প্রশ্নই উঠছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?