নকআউটে উঠেও স্বস্তি নেই ইংল্যান্ডের!
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় পেয়েও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মতো ফুটবল খেলতে পারল না ইংল্যান্ড। পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠেছে টমাস টুখেলের দল। কিন্তু পুরো ম্যাচে তাদের খেলায় ছন্দের অভাব, আক্রমণে একঘেয়েমি এবং রক্ষণে একাধিক দুর্বলতা চোখে পড়েছে। অন্য ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে অভিজ্ঞ ক্রোয়েশিয়া। তবে পরাজিত হলেও চার পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে ওঠার দৌড়ে টিকে রয়েছে ঘানা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু সেই দখলকে গোলের সুযোগে রূপ দিতে বারবার ব্যর্থ হন হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা ও মার্কাস রাশফোর্ডরা। আক্রমণের প্রায় সব পরিকল্পনাই ছিল দুই প্রান্ত থেকে ক্রস তুলে বক্সে কেনকে খুঁজে নেওয়া। কিন্তু পানামার রক্ষণ সেই কৌশল সহজেই আটকায়। প্রথমার্ধে কেনকে প্রায় খুঁজেই পাওয়া যায়নি।
টুখেলের দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল সৃজনশীলতার অভাব। মাঝমাঠে দ্রুত পাস বা থ্রু বলের পরিবর্তে একই ধরনের আক্রমণ বারবার করতে গিয়ে কার্যত নিজেদেরই আটকে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। বলের দখল থাকলেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। এমনকি পানামাও কয়েক বার পাল্টা আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। কর্নার থেকে দুর্দান্ত দক্ষতায় গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি পানামা। কিছুক্ষণ পর বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যারি কেন। পানামা একবার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। তবে নকআউটে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমন ছন্নছাড়া ফুটবল বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
অন্য ম্যাচে বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবারও দলের ভরসা হয়ে উঠলেন লুকা মদ্রিচ। ৪০ বছর বয়সেও মাঝমাঠে তাঁর নিয়ন্ত্রণ এবং অভিজ্ঞতাই ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি। শুরুতে ঘানার গতি সামলাতে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও পরে ম্যাচের ছন্দ নিজেদের হাতে নেয় ক্রোয়েশিয়া।
প্রথম গোল আসে পিটার সুচিচের দূরপাল্লার শটে। বিরতির পর ঘানা আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে সমতা ফিরিয়ে আনে লুকাসেনের গোলে। প্রথমে অফসাইডের সন্দেহ থাকলেও ভিএআর দেখে গোল বৈধ ঘোষণা করা হয়। সমতায় ফেরার পর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত মদ্রিচের নিখুঁত পাস থেকে নিকোলা ভ্লাসিচ গোল করে আবার এগিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়াকে। সেই লিড আর হাতছাড়া করেনি জ্লাটকো ডালিচের দল।
এই জয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে হারলেও চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঘানা। অন্য গ্রুপগুলির ফলাফলের উপর নির্ভর করলেও তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা এখনও যথেষ্ট উজ্জ্বল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?