ওষুধেও সেরে উঠছে না দাদ!
এক সময় দাদ (Ringworm) বা ছত্রাক সংক্রমণ হলে সাধারণ একটি মলম লাগালেই সুস্থ হয়ে যেতাম। কিন্তু এখন ত্বকের এই রোগ ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে!
দাদ সেরে গেলেও বারবার ফিরে আসছে, ওষুধেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান।
গত ৪-৫ বছরে ভারতে দাদের প্রকোপ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু কেন? চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত স্টেরয়েডযুক্ত প্রসাধনী ও ওষুধের ব্যবহার, অপরিষ্কার জীবনযাপন এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়াই এর মূল কারণ।
🔍 দাদ কেন এভাবে বাড়ছে?
একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে—
✅ ৫০ বছরের বেশি বয়সী ভারতীয়দের ৫৬% দাদ সম্পর্কে সচেতনই নন।
✅ যাঁদের ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হার্টের সমস্যা বা ফুসফুসের রোগ আছে, তাঁদের দাদ হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
✅ যাঁরা অপরিষ্কার থাকেন, বেশি ঘামেন বা আঁটোসাঁটো পোশাক পরেন, তাঁদেরও সংক্রমণ হয়।
🦠 দাদ কেন এতদিন থাকছে?
চিকিৎসক শালিনী মেননের মতে,
🗣️ “আগে দাদ এক-দু’সপ্তাহেই সেরে যেত। এখন এটি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, ওষুধ লাগালেও বারবার ফিরে আসছে। কারণ, ছত্রাক সংক্রমণের বিরুদ্ধে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে।”
এর অন্যতম কারণ—
✅ ওষুধের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা (drug resistance) বৃদ্ধি।
✅ অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনীর ব্যবহার।
✅ অপরিষ্কার ত্বক এবং ঘামের কারণে ছত্রাকের সহজ বিস্তার।
🔥 দাদ সবচেয়ে বেশি কোথায় হয়?
দাদের সংক্রমণ সাধারণত শরীরের ঘামে ভেজা অংশে বেশি হয়, যেমন—
✔ বাহুমূল (armpit)
✔ গলা ও ঘাড়
✔ স্তনের নিচে
✔ যৌনাঙ্গ ও কুঁচকি
✔ কোমর ও উরুর ভাঁজে
চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মতে,
🗣️ “যাঁরা আঁটোসাঁটো পোশাক পরেন বা স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম বেশি ব্যবহার করেন, তাঁদের দাদ বেশি হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাটা খুব জরুরি।”
💊 কেন ওষুধেও দাদ সেরে উঠছে না?
দাদের চিকিৎসায় সাধারণত ফ্লুকোনাজোল (Fluconazole) বা মিকোনাজোল (Miconazole) জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে—
🚨 এই ওষুধেও দাদ পুরোপুরি সারছে না।
🚨 কিছুদিন পর দাদ আবার ফিরে আসছে।
এর কারণ, অতিরিক্ত ওষুধের ব্যবহার ও স্টেরয়েডের অপপ্রয়োগে ছত্রাকের গঠন বদলে গেছে। ফলে ওষুধ আর আগের মতো কাজ করছে না।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কৌশিক লাহিড়ী বলেন,
🗣️ “স্টেরয়েডের অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে ছত্রাক সহজেই সংক্রমণ ঘটাতে পারছে।”
🚫 দাদ প্রতিরোধে কী করবেন?
💡 ১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন:
✅ প্রতিদিন ভালো করে গোসল করুন।
✅ ঘামের অংশগুলো শুকনো রাখুন।
✅ কুসুম গরম পানিতে কাপড় ধুয়ে নিন।
💡 ২. স্টেরয়েডযুক্ত প্রসাধনী ও ক্রিম এড়িয়ে চলুন:
❌ ফর্সা হওয়ার ক্রিমে স্টেরয়েড থাকে, যা দাদকে বাড়িয়ে দেয়।
❌ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো মলম বা ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
💡 ৩. আঁটোসাঁটো পোশাক পরবেন না:
👕 ঢিলেঢালা, আরামদায়ক পোশাক পরুন।
🌬️ শরীর যাতে সহজে বাতাস পায়, তা নিশ্চিত করুন।
💡 ৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান:
🍎 স্বাস্থ্যকর খাবার খান (শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন)।
🏋️ নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
🚰 পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।
💡 ৫. চুলকানি হলে নিজে থেকে ওষুধ মাখবেন না:
✅ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
✅ নিজের ইচ্ছেমতো অ্যান্টিফাঙ্গাল মলম ব্যবহার করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
📌 উপসংহার: সতর্ক থাকলেই মুক্তি মিলবে!
⚠️ দাদ এখন আর ছোটখাটো সমস্যা নয়, বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল হয়ে উঠছে।
⚠️ ওষুধের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায়, আগের মতো সহজে এটি সারছে না।
তাই দাদ এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, স্টেরয়েডযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
বাড়তি সতর্কতা নিলে আপনি সহজেই এই সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন!
৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল, কম্পন অনুভূত শিলিগুড়িতেও! আতঙ্কে রাত কাটালেন বাসিন্দারা