একাকিত্ব কাটাতে ‘ভাড়া করা প্রেমিক’! জাপানের ট্রেন্ডে আগ্রহ বাড়ছে ভারতেও, কী এই নতুন পরিষেবা?

জাপানের ট্রেন্ডে আগ্রহ বাড়ছে ভারতেও, কী এই নতুন পরিষেবা? ব্যস্ত জীবন, একাকিত্ব কিংবা মন খুলে কথা বলার মতো কাউকে না পাওয়া— এই সব কারণেই এখন অনেকেই নতুন ধরনের একটি পরিষেবার…

July 27, 2026
1 min read

জাপানের ট্রেন্ডে আগ্রহ বাড়ছে ভারতেও, কী এই নতুন পরিষেবা?

ব্যস্ত জীবন, একাকিত্ব কিংবা মন খুলে কথা বলার মতো কাউকে না পাওয়া— এই সব কারণেই এখন অনেকেই নতুন ধরনের একটি পরিষেবার দিকে ঝুঁকছেন। নাম ‘রেন্ট আ বয়ফ্রেন্ড’ বা ঘণ্টাভিত্তিক সঙ্গী ভাড়া। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও জাপানে বহু বছর ধরেই এই পরিষেবা জনপ্রিয়। আর ধীরে ধীরে ভারতের কিছু শহরেও এর ছাপ দেখা যাচ্ছে।

এই পরিষেবায় কোনও প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করা বা জীবনসঙ্গী খোঁজার বিষয় নেই। বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একজন সঙ্গীকে বুক করা যায়, যিনি বন্ধুর মতো পাশে থাকবেন। কেউ সিনেমা দেখতে যেতে চান, কেউ কফি খেতে, কেউ শপিং করতে বা কোনও অনুষ্ঠানে একা না যেতে চাইলে এই পরিষেবা ব্যবহার করেন। অনেকেই আবার শুধু কিছু সময় গল্প করার বা মন খুলে কথা বলার জন্যও এই সঙ্গী বুক করেন।

এই ধারণার সূত্রপাত জাপানে। ১৯৯০-এর দশকে সেখানে ‘রেন্টাল ইকোনমি’-র অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টার জন্য পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গী ভাড়া করার চল শুরু হয়। পরে ২০১০ সালের পর তা আরও বিস্তৃত হয়ে ‘বয়ফ্রেন্ড’ ও ‘গার্লফ্রেন্ড’ ভাড়া পরিষেবার রূপ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের কর্মব্যস্ত জীবন, একা বসবাসের প্রবণতা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশে সামাজিক সংকোচ এই পরিষেবার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। অনেকের কাছেই পরিচিত মানুষের বদলে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির সঙ্গে কিছু সময় কাটানো বা নিজের কথা বলা বেশি স্বস্তিদায়ক বলে মনে হয়।

তবে নাম শুনে এটিকে ডেটিং বা যৌন পরিষেবার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার সুযোগ নেই। অধিকাংশ সংস্থাই স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই পরিষেবা শুধুমাত্র সামাজিক সঙ্গ দেওয়ার জন্য। গ্রাহক ও সঙ্গীর সাক্ষাৎ হয় ক্যাফে, পার্ক, রেস্তোরাঁ, সিনেমাহল বা শপিং মলের মতো প্রকাশ্য জায়গায়। শারীরিক ঘনিষ্ঠতা, যৌন সম্পর্ক, হোটেলে যাওয়া বা রাত্রিযাপনের মতো কোনও কর্মকাণ্ডই পরিষেবার অংশ নয় এবং সেগুলি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পরিষেবার বিনিময়ে মূলত সময়, মনোযোগ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সঙ্গই কেনা হয়। বিভিন্ন সংস্থায় ঘণ্টাপ্রতি প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। সময় যত বাড়ে, খরচও তত বৃদ্ধি পায়।

ভারতে এখনও জাপানের মতো সংগঠিত এজেন্সিভিত্তিক এই পরিষেবা খুব বেশি বিস্তার লাভ করেনি। তবে ফেসবুক গ্রুপ, ইনস্টাগ্রাম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে পরিষেবা দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। কফি ডেট, শপিং, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সঙ্গ দেওয়া কিংবা শুধুই গল্প করার মতো পরিষেবার বিজ্ঞাপনও দেখা যাচ্ছে।

এই প্রবণতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একাংশের মতে, এটি শহুরে একাকিত্ব কাটানোর একটি নতুন সামাজিক পরিষেবা। অন্যদের মতে, এতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আবেগ ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হচ্ছে। বিতর্ক থাকলেও ডিজিটাল যুগে মানুষের সামাজিক চাহিদা ও একাকিত্বের পরিবর্তিত ছবির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘রেন্ট আ বয়ফ্রেন্ড’ পরিষেবা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার একটি নতুন বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *