গড়িয়ার পার্লার-কাণ্ডে কী ঘটেছিল?
দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া—চেনা, শান্ত এক পাড়ায় আচমকাই নেমে এল শোকের ছায়া। এক সময়ের স্বাভাবিক জীবন, সম্পর্কের টানাপোড়েন আর অসমাপ্ত আবেগ—সব মিলিয়ে তৈরি হল এক ভয়াবহ পরিণতি, যা নাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়দের।
রূপটানশিল্পী রূপবাণী দাস, যিনি ‘পম্পা’ নামেই বেশি পরিচিত, প্রায় ১৫ বছর ধরে নিজের পার্লার চালাতেন। এলাকার পরিচিত মুখ, সংসার, স্বামী ও সন্তান—সব মিলিয়ে গুছিয়ে চলছিল তাঁর জীবন। কিন্তু এই পরিচিত ছবির আড়ালেই তৈরি হচ্ছিল অন্য এক গল্প।
📱 পরিচয় থেকে প্রেম, তারপর অশান্তি
তদন্তকারীদের মতে, সমাজমাধ্যমে আলাপ হয়েছিল পম্পার সঙ্গে পঙ্কজ নাথ-এর। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গড়ায় সম্পর্কে। সম্পর্ক গভীর হতেই শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি।
পরিবারের দাবি, কিছু মাস আগে পম্পা সব ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে হরিয়ানা চলে গিয়েছিলেন। সেখানে কিছুদিন কাটানোর পর আবার কলকাতায় ফিরে আসেন। মনে করা হচ্ছে, পরিবারকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে তিনি সম্পর্ক থেকে দূরে সরে আসার চেষ্টা করছিলেন। আর সেই দূরত্বই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
⚠️ ঘটনার দিন: তর্ক থেকে ট্র্যাজেডি
মঙ্গলবার দুপুরে পম্পাকে তাঁর স্বামী পার্লারে পৌঁছে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছন পঙ্কজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, তিনি ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।
এরপর শুরু হয় তীব্র বচসা—যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। কিছুক্ষণ পরে পঙ্কজ পার্লার থেকে বেরিয়ে এসে বাইরে লুটিয়ে পড়েন। ভিতরে তখন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন পম্পা।
পরে পুলিশ এসে দু’জনকেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে ধারালো অস্ত্র ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানা যায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর কারণ।
🧩 সম্পর্কের জট, না কি ভুল বোঝাবুঝি?
এই ঘটনার পর উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন।
পম্পার স্বামী থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, পঙ্কজের পরিবারের দাবি—পম্পা হরিয়ানায় থাকাকালীন নিজেকে তাঁর স্ত্রী হিসেবেই পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু কলকাতায় ফিরে এসে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এই টানাপোড়েন, প্রত্যাশা আর বাস্তবতার সংঘর্ষই কি এই ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিল দু’জনকে?
🔍 তদন্তে কী জানা যাচ্ছে?
নরেন্দ্রপুর থানা-র পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
- মোবাইল ফোন ও অস্ত্র ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে
- উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে
- পঙ্কজের পরিবারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে
কয়েক মাস আগে পম্পার ‘নিখোঁজ’ ডায়েরি হওয়াও তদন্তে নতুন দিক যোগ করেছে।
📌 শেষ কথা
এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধের গল্প নয়—এটি সম্পর্কের জটিলতা, আবেগের চাপ এবং সিদ্ধান্তের পরিণতির এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
ভালবাসা কখনও কখনও মানুষকে সব কিছু ছাড়তে বাধ্য করে, কিন্তু সেই ভালবাসাই যদি ভেঙে যায়—তার অভিঘাত কতটা ভয়াবহ হতে পারে, গড়িয়ার এই ঘটনা তারই এক করুণ উদাহরণ।