জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মত
শরীরচর্চা মানেই শুধু ফিটনেস নয়, এটি সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি। বিশেষ করে জিমে গিয়ে ওজন সহ ব্যায়াম করলে শরীরের বাড়তি মেদ দ্রুত কমে এবং পেশি শক্তিশালী হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন রয়েছে, তাঁদের জন্য কি ভারী ওজন তোলা নিরাপদ? উত্তর হল—সব সময় নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চা নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী হলেও সব ধরনের ব্যায়াম সবার জন্য উপযুক্ত নয়। যাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকে, তাঁরা নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজন সহ ব্যায়াম করলে তা শরীরের পক্ষে উপকারী হতে পারে। এতে পেশির ঘনত্ব বাড়ে, বিপাকক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু রক্তচাপ যদি অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে ভারী ওজন তোলা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এমনকি হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকিও থেকে যায়।
বিশ্বজুড়ে কার্ডিওলজিস্ট ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহে অন্তত দু’দিন স্ট্রেংথ ট্রেনিং করা প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের পক্ষে ভালো। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা যদি হঠাৎ করেই অতিরিক্ত ভারী ওজন তুলতে যান, তাহলে বিপদ আসতে পারে। কারণ ওজন তোলার সময় অনেকেই অজান্তে শ্বাস আটকে রাখেন, যাকে বলে “ভ্যালসালভা ম্যানুভার”। এতে হঠাৎ রক্তচাপ অনেকটা বেড়ে গিয়ে হৃদ্যন্ত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করে, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়াও, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের বাড়িতে ঘন ঘন ভারী ওজন তোলা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়। সাধারণ জিনিস তুলতেও সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ দৈনন্দিন কাজের সময় হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ হৃদ্যন্ত্রে ধাক্কা দিতে পারে।
তাহলে সমাধান কী?
প্রথমেই পরামর্শ হল—ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে ও ফিটনেস ট্রেনারের নির্দেশে শরীরচর্চা শুরু করা। শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ শেখা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ওজন তোলার সময় যদি শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সঠিক পদ্ধতি জানা থাকে, তবে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়।
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য কিছু ব্যায়াম একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন—
- হাই ইন্টেনসিটি ট্রেনিং (HIT): খুব অল্প সময়ে বেশি তীব্রতায় করা হয়, যা রক্তচাপে ঝুঁকি বাড়ায়।
- আইসোমেট্রিক এক্সারসাইজ: যেখানে পেশি টানটান করে না নড়ানো হয়, তাতেও রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
এর পরিবর্তে আরও নিরাপদ এবং কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে—
- এরোবিক্স: হৃদ্যন্ত্র ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
- হালকা ওজন সহ ব্যায়াম: ধীরে ধীরে শুরু করে শরীরের সহনশক্তি বাড়ানো যায়।
- যোগ ও পাইলেটস: শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রেখে রক্তচাপ কমাতে সহায়ক।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি, শরীরচর্চা মানেই সর্বাধিক ওজন তোলা নয়। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরকে সক্রিয় ও সুস্থ রাখা, কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে ফিটনেস বাড়ানো। তাই ভারী ওজন তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের রক্তচাপের অবস্থা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রশিক্ষকের নির্দেশকেই প্রাধান্য দিন।
সঠিক নিয়মে ব্যায়াম করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ভুল পদ্ধতিতে ভারী ওজন তোলা বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করুন, নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝুন, এবং সচেতন থেকেই সুস্থ ও সক্রিয় জীবনের পথে হাঁটুন।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা