ইরানে ইজ়রায়েলি হামলায় মৃত্যু শীর্ষ সেনাকর্তার!
প্রকাশ্য যুদ্ধ না হলেও কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হল পশ্চিম এশিয়ায়। শুক্রবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলে আকাশপথে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েলি বাহিনী। লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু এবং সামরিক ঘাঁটি। এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের এক শীর্ষ কমান্ডারের। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে, উদ্বেগে আন্তর্জাতিক মহল।
পরমাণু ঘাঁটির দিকে নিশানা
ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাট্জ় জানিয়েছেন, তাঁদের বাহিনী ইরানের বেশ কিছু কৌশলগত পরমাণু স্থাপনায় বিমান হানা চালিয়েছে। যদিও হামলার নির্দিষ্ট স্থানগুলি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পশ্চিম তেহরানের চিতগর এলাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। যদিও সেখানে পরমাণু কেন্দ্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
নিহত শীর্ষ সেনা ও বিজ্ঞানীদের মৃত্যু
এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের প্রভাবশালী সামরিক নেতা হোসেন সালামি। যদিও ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, এই খবরে বিভ্রান্তি রয়েছে। একইসঙ্গে, ইজ়রায়েলের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মহম্মদ হোসেন বাগেরিও নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, বাগেরি সুস্থ আছেন এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। ইজ়রায়েলি মিডিয়ার দাবি, নিহতদের মধ্যে পরমাণু বিজ্ঞানীরাও রয়েছেন।
ইজ়রায়েলের অপারেশন ও সতর্কবার্তা
‘অপারেশন রাইসিং লায়ন’ নামে এই সামরিক অভিযানে ইজ়রায়েল একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বুঝে দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইজ়রায়েল।
আমেরিকার প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান
এই সংঘাতে জড়াতে চায় না আমেরিকা। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, “এই হামলায় আমেরিকার কোনও ভূমিকা নেই।” তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সেনার সুরক্ষায় যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পেন্টাগন ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছে, আমেরিকার কোনও স্বার্থে আঘাত এলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।
সংঘাতের আগাম ইঙ্গিত ছিল
বুধবারই রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছিল, ইজ়রায়েল বড়সড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের তরফে তখন পোস্ট করা হয়, “We Are Ready”— যা একপ্রকার ইজ়রায়েলকেই লক্ষ্য করে দেওয়া হুঁশিয়ারি ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কূটনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা
পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত ষষ্ঠ পর্যায়ের আলোচনা নিয়ে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক আরও তলানিতে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “আলোচনা ব্যর্থ হলে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলি ইরানের টার্গেট হবে।” এই সতর্কবার্তা ঘিরে গোটা অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির ছায়া।
এ দিকে আমেরিকার দূতাবাসগুলিতে সতর্কতা
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে আমেরিকা ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “এই অঞ্চল ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। তাই আমরা আগে থেকেই সরিয়ে নিচ্ছি।”
চল্লিশের পর ফিটনেস মানে শুধু ঘাম নয়, সচেতনতা! লিসা রে জানালেন কোন ব্যায়াম থেকে দূরে থাকবেন