ইরানের সুরবদল: পরমাণু চুক্তি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনায় আগ্রহী তেহরান?

ইরানের সুরবদল! মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুর বদলাল ইরান। মার্কিন হুঁশিয়ারির পর এবার ইঙ্গিত মিলল আলোচনার পথে হাঁটার। সোমবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরকচি জানিয়ে দিলেন, “আমরা পরোক্ষ…

March 25, 2025
1 min read

ইরানের সুরবদল!

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুর বদলাল ইরান। মার্কিন হুঁশিয়ারির পর এবার ইঙ্গিত মিলল আলোচনার পথে হাঁটার। সোমবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরকচি জানিয়ে দিলেন, “আমরা পরোক্ষ আলোচনার পথ খোলা রাখছি।” যদিও সরাসরি আলোচনায় যেতে এখনই রাজি নয় তেহরান।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া

গত সপ্তাহেই আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে নতুন করে রাজি হওয়ার জন্য দু’মাসের ‘চূড়ান্ত সময়সীমা’ বেঁধে দিয়েছিলেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এই সময়সীমার মধ্যে ইরান পদক্ষেপ না করলে সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে ওয়াশিংটন।

এরপর হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। রবিবার আব্বাস আরকচি চিঠির প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “কিছু বিষয়ে অবস্থান না বদলালে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনার সম্ভাবনা নেই।”

কিন্তু সোমবার তাঁর বক্তব্যে খানিকটা পরিবর্তন দেখা গেল। আব্বাস বললেন, “ট্রাম্পের চিঠির বেশির ভাগই হুমকি। তবে এটি কিছু সুযোগও তৈরি করতে পারে। তেহরান দ্রুতই চিঠির উত্তর দেবে।”

২০১৫-র চুক্তি ও তার পরবর্তী ঘটনা

২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা-র উদ্যোগে ইরানের সঙ্গে ছয়টি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে একটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর শর্ত অনুযায়ী, ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ মেনে চলবে। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল।

কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেন এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর পর থেকে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হয়ে ওঠে।

ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল ত্রিমুখী উত্তেজনা

ইরানকে চাপে রাখতে সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েল একটি বৈঠকের ঘোষণা করেছে। সেখানে ইরান চুক্তি না মানলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও সাফ জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালের চুক্তির শর্ত মেনে কোনও নতুন চুক্তি হবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান-এর ঘনিষ্ঠ আব্বাস আরকচির এই অবস্থান হয়তো কিছুটা উত্তেজনা কমাতে পারে, কিন্তু সংকট কাটবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

পরের ধাপ কী?

ইরান দ্রুতই ট্রাম্পের চিঠির উত্তর দেবে বলে জানিয়েছে। সেই উত্তরেই ইঙ্গিত মিলবে, সত্যিই কি তেহরান আলোচনার পথে এগোতে চায়, নাকি এটি শুধুই কৌশলগত চাল?

পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থির পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল এখন তাকিয়ে ইরান ও আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

কনকনে ঠান্ডায় লন্ডনে মমতা: বিলেতে শুরু ছয় দিনের কর্মসূচি!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *