অন্তরালে থেকেও সক্রিয় মোজতবা!
ইরানের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা ও জল্পনার আবহের মধ্যেই আবার সামনে এল এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। প্রকাশ্যে না এলেও, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষিত Mojtaba Khamenei নতুন করে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘বন্ধু’ দেশ ইরাককে। আর এই বার্তা ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
সম্প্রতি Donald Trump তাঁর বক্তব্যে মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন—মোজতবা আদৌ জীবিত কি না। সেই মন্তব্যের কিছুদিন পরেই এই নতুন বার্তা প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্য বেড়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ইরাকের জনগণ এবং ধর্মীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোজতবা। বিশেষ করে Ali al-Sistani-র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। ইরানের দাবি, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় ইরাক যে ভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তারই স্বীকৃতি এই বার্তা।
সূত্রের খবর, বাগদাদে ইরানের রাষ্ট্রদূত এবং ইরাকের ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠকের পরেই এই বিবৃতি দেওয়া হয়। যদিও এখনও স্পষ্ট নয়, ঠিক কোথা থেকে বা কী পরিস্থিতিতে এই বার্তা পাঠিয়েছেন মোজতবা। তিনি এখনও জনসমক্ষে আসেননি, যা জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সংঘাতের আবহে Ali Khamenei-র মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মোজতবাকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি আড়ালে রয়েছেন। মাঝে মধ্যে বিবৃতি প্রকাশ পেলেও তাঁর অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য দেয়নি তেহরান।
ইরানের কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় মোজতবা আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আঘাত কতটা গুরুতর, তা জানা যায়নি। সরকারিভাবেও এ বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর যে ছবিগুলি প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলি নতুন না পুরনো—সেটাও পরিষ্কার নয়।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্য আরও বিতর্ক বাড়িয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে, তবে তিনি মোজতবা নন। তাঁর কথায়, “ওঁর কাছ থেকে কিছুই শোনা যাচ্ছে না, তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, সেটাও জানা নেই।”
যদিও ইরান সরকার বারবার জানিয়ে আসছে, মোজতবা জীবিত এবং তিনিই বিভিন্ন বিবৃতি জারি করছেন। নতুন এই বার্তাও সেই দাবিকেই আরও জোরালো করতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সব মিলিয়ে, একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। তিনি কবে প্রকাশ্যে আসবেন, আদৌ আসবেন কি না—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না