দিল্লিতে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের সতর্কবার্তা!
দিল্লিতে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। বার বার নির্দেশ দেওয়ার পরেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না-নেওয়া হলে বিচারপতিরাই ধর্নায় বসবেন বলে মৌখিক ভাবে সতর্ক করেছে শীর্ষ আদালত। শুক্রবার বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে একটি মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য উঠে আসে। যদিও ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত হালকা মেজাজেই কথাটি বলেছিল।
কোথায় পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন?
মামলাটি দিল্লির মথুরা রোডে দিল্লি হাই কোর্টের মোড় এবং ন্যাশনাল জ়ুলজিক্যাল পার্কের কাছে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা নিয়ে। অভিযোগ, ওই এলাকায় নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ ওই রাস্তা পেরিয়ে হাই কোর্টে যাতায়াত করেন। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত মাসে মামলার শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়েছে। কিন্তু সেটি সব সময়ে ঠিকমতো কাজ করে না বলেও অভিযোগ ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, শুধু ট্রাফিক সিগন্যাল বসালেই সমস্যার সমাধান হবে না। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই ক্রসিংয়ে বাম্পার এবং রাম্বল স্ট্রিপ বসানোর মতো ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
কমিটি গঠনেই সন্তুষ্ট নয় আদালত
চলতি মাসের গোড়াতেও সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, হাই কোর্ট এবং চিড়িয়াখানার সামনের রাস্তা পারাপার নিরাপদ করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।
শুক্রবার ফের মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে কেন্দ্রের হয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বিক্রমজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কিন্তু শুধু কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেয় আদালত। বিচারপতিদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করতে হবে। তা না-হলে দিল্লির মুখ্যসচিবকে আদালতে তলব করা হতে পারে।
২৫ নভেম্বরের মধ্যে পদক্ষেপের বার্তা
‘লাইভ ল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতিদের বেঞ্চ কেন্দ্রকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করে জানায়, ২৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না-নেওয়া হলে তাঁরা নিজেরাই দিল্লি হাই কোর্টের বাইরে অবস্থানে বসবেন। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলকেও তাঁদের সঙ্গে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা। সমস্যার সমাধান না-হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে বলেও আদালত জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের এই কড়া বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় নিরাপদ রাস্তা পারাপারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে কি না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।