হুথি হামলার আতঙ্কে বাঙ্কারে সৌদির যুবরাজ!!
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখে সৌদি আরব। বিমানবন্দর থেকে তেল সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো— একের পর এক জায়গায় হামলার খবর সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমনকে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়েছে বলে দাবি করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। অন্য দিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আমেরিকার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তেল পরিকাঠামো ও বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর পূর্ব সৌদি আরবের ধাহরানে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। ওই শহরেই রয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আরামকোর সদর দফতর। হামলায় সংস্থার প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, ৮ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির জেরে বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং আকাশ এয়ারের মতো ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি উপসাগরীয় দেশটিতে উড়ান বাতিল করেছে।
বাঙ্কারে যুবরাজ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথি হামলার আশঙ্কায় রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন ৪১ বছর বয়সি সলমন। ৬ অক্টোবরের পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। বাঙ্কারে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তাবাহিনী তাঁর সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তবে যুবরাজের বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়া কিংবা তাঁর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের উল্লেখ প্রতিবেদনে নেই। ফলে এই দাবিগুলিকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সূত্রের বক্তব্য হিসাবেই দেখা প্রয়োজন।
প্যাট্রিয়ট ও থাড থাকা সত্ত্বেও প্রশ্ন
সৌদি আরবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অলটিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু চলতি অক্টোবরের হামলাগুলি আটকাতে এই ব্যবস্থাগুলি ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে আমেরিকা যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ওয়াশিংটন ধীরে ধীরে রিয়াধের নিরাপত্তার দায়িত্ব থেকে সরে আসতে পারে। যদিও আমেরিকা সৌদি আরবকে সম্পূর্ণ ভাবে পরিত্যাগ করছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
ইজ়রায়েলের সাহায্য নেওয়া কি সম্ভব?
হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার মাধ্যমে অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইজ়রায়েলের সাহায্য নিতে হলে সৌদি আরবকে তাদের বায়ুসেনার জন্য আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিতে হতে পারে। প্যালেস্টাইন প্রশ্নে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে জটিল হতে পারে।
কয়েক দশকের সৌদি-মার্কিন সম্পর্ক
১৯৪৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা রাজা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের মধ্যে ইউএসএস কুইন্সি যুদ্ধজাহাজে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠককে ঘিরেই দুই দেশের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সহযোগিতার সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দুই দেশ একাধিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতেও আবদ্ধ হয়েছে।
২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের পর যুবরাজ সলমনের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। সেই সময়েও আমেরিকার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হুথি হামলা মোকাবিলায় ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ করে, তা নিয়ে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকা কতটা সক্রিয় হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।