সারাদিন ফুরফুরে থাকতে কর্টিসল কমাবেন কীভাবে?
ঘুম থেকে উঠেই মন খারাপ, অকারণে বিরক্তি বা সারাক্ষণ চাপ অনুভব করা— এমন সমস্যার নেপথ্যে অনেক সময় থাকে শরীরের কর্টিসল বা ‘স্ট্রেস হরমোন’-এর মাত্রা বেড়ে যাওয়া। এই হরমোন শরীরের জন্য জরুরি হলেও দীর্ঘদিন অতিরিক্ত কর্টিসল মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা এবং ক্লান্তির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে কয়েকটি সহজ পরিবর্তন আনলেই কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সারাদিন সতেজ থাকা সম্ভব।
১. ব্যায়ামকে আনন্দের অংশ করুন
জিমে কঠিন ওয়ার্কআউট করতেই হবে এমন নয়। সকালে পার্কে হাঁটা, সাইকেল চালানো বা খোলা বাতাসে কিছুটা সময় কাটানোও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকলে শরীর ও মন দু’টিই অনেক বেশি প্রশান্তি অনুভব করে, যা কর্টিসল কমাতে সহায়ক হতে পারে।
২. সকালের খাবারে আনুন স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন
খালি পেটে অতিরিক্ত চা বা কফি অনেকের ক্ষেত্রে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তার বদলে ভেষজ চা বা পুষ্টিকর খাবার দিয়ে দিন শুরু করা ভাল।
খাদ্যতালিকায় রাখুন—
- ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন কাঠবাদাম, কলা ও সবুজ স্যালাড।
- ট্রিপটোফ্যানসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাছ ও কুমড়োর বীজ, যা শরীরে সেরোটোনিন বা ‘হ্যাপি হরমোন’ তৈরিতে সাহায্য করে।
৩. প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে থাকুন
আন্তরিক আলিঙ্গন, হাত ধরা বা পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক সংযোগ শরীরে প্রশান্তির অনুভূতি বাড়ায় এবং স্ট্রেসের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
৪. মনের কথা চেপে রাখবেন না
সব অনুভূতি নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখলে মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলুন বা ডায়েরিতে নিজের অনুভূতি লিখে ফেলুন। এতে মানসিক ভার অনেকটাই হালকা হয় এবং উদ্বেগও কমতে পারে।
৫. নিজের শখের জন্য সময় রাখুন
কাজের ব্যস্ততায় অনেকেই নিজের ভাললাগার বিষয়গুলো ভুলে যান। অথচ গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা, রান্না, বই পড়া বা নাচের মতো শখ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও প্রিয় কাজের জন্য সময় রাখলে মন ভাল থাকে এবং চাপ কম অনুভূত হয়।
কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও যা মনে রাখবেন
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়াতে কাজের মধ্যে ছোট ছোট বিরতি নিন।
- নিয়মিত জল পান করুন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
- দীর্ঘদিন মন খারাপ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাস একদিনে ফল না দিলেও নিয়মিত চর্চা করলে ধীরে ধীরে কর্টিসলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মনকে আরও শান্ত ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?