৯০ বছরেও বডিবিল্ডিং মঞ্চে অপ্রতিরোধ্য! এক সময় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সোয়ার্ৎজ়েনেগার, জিতেছেন ১৯টি জাতীয় খেতাব

এক সময় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সোয়ার্ৎজ়েনেগার! বয়স ৯০ পেরিয়েছে। কিন্তু শরীরচর্চার প্রতি জেদে এখনও তরুণদের টেক্কা দেন জাপানের তোশিসুকে কানাজ়াওয়া। সম্প্রতি ৮৫ ঊর্ধ্ব বিভাগে ‘অল জাপান মাস্টার্স ফিটনেস চ্যাম্পিয়নশিপ’ জিতে ১৯তম…

October 5, 2026
0 min read

এক সময় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সোয়ার্ৎজ়েনেগার!

বয়স ৯০ পেরিয়েছে। কিন্তু শরীরচর্চার প্রতি জেদে এখনও তরুণদের টেক্কা দেন জাপানের তোশিসুকে কানাজ়াওয়া। সম্প্রতি ৮৫ ঊর্ধ্ব বিভাগে ‘অল জাপান মাস্টার্স ফিটনেস চ্যাম্পিয়নশিপ’ জিতে ১৯তম জাতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছেন তিনি। এখানেই থামতে চান না নবতিপর এই বডিবিল্ডার।

১৯৬৭ সালে মন্ট্রিলে আয়োজিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় একই মঞ্চে ছিলেন আর্নল্ড সোয়ার্ৎজ়েনেগার এবং সার্জিও অলিভা। বিজয়ী হন অলিভা, আর কানাজ়াওয়া শেষ করেন চতুর্থ স্থানে। প্রথম তিনে জায়গা না পেলেও সেই হার তাঁকে থামাতে পারেনি।

জাপানের এই বডিবিল্ডারের কেরিয়ার অবশ্য শুরু হয়েছিল অন্য একটি খেলাকে ঘিরে। ১৯৩৬ সালে শিমানে প্রিফেকচারে জন্ম কানাজ়াওয়ার। স্কুলজীবনে তিনি ছিলেন প্রতিভাবান সাঁতারু। ১৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে দক্ষতা ছিল তাঁর। এক সময় অলিম্পিকে জাপানের হয়ে সাঁতার কাটার স্বপ্নও দেখেছিলেন। কিন্তু পেশিতে সমস্যা হওয়ায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এরপরই বডিবিল্ডিংকে নিজের লক্ষ্য করে নেন।

২৪ বছর বয়সে প্রথম বার ‘মিস্টার জাপান’ খেতাব জেতেন কানাজ়াওয়া। তিন বছর পর আবারও সেই শিরোপা পান। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়ে তাঁর।

শুরুটা কিন্তু সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না। বিশেষ কোনও ডায়েটও অনুসরণ করতে পারতেন না। মায়ের তৈরি সাধারণ খাবারই ছিল তাঁর ভরসা। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে পাওয়া টাকা দিয়ে মাঝেমধ্যে দুধ ও পনির কিনতেন।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসে বদল এলেও সরলতাই বজায় রেখেছেন কানাজ়াওয়া। ব্রাউন রাইস, নাত্তো, মিসো স্যুপ তাঁর খাবারের তালিকায় থাকে। এক সময় দিনে ছ’টি প্রোটিন শেক খেতেন। বয়সের কারণে এখন তা কমিয়ে তিনটি করেছেন। কয়েক দশক আগে মাংস ও মাছ খাওয়াও ছেড়ে দিয়েছেন। ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাসও কখনও ছিল না তাঁর।

অবসরের পর এক সময় শরীরচর্চা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন কানাজ়াওয়া। পরে স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উৎসাহ দিতে প্রায় ৫০ বছর বয়সে আবার প্রতিযোগিতামূলক বডিবিল্ডিংয়ে ফেরেন। কয়েক বছর পর মাস্টার্স চ্যাম্পিয়নশিপে ফের সাফল্য পান।

৮০ বছর পেরিয়েও ছ’টি ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন তিনি। এখন সপ্তাহে ছ’দিন প্রায় দু’ঘণ্টা করে প্রশিক্ষণ নেন। বয়সের কথা মাথায় রেখে ভারী স্কোয়াট বা বেঞ্চ প্রেসের বদলে মেশিনে ব্যায়াম করেন।

কানাজ়াওয়ার বার্তা স্পষ্ট— বয়স বাড়লেও শরীর ও মনের সক্রিয়তা ধরে রাখা সম্ভব। তাঁর ১৯তম জাতীয় খেতাব যেন সেই বিশ্বাসেরই প্রমাণ। প্রতিযোগিতার মঞ্চে এখনও তাঁর লড়াই থামেনি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *