মানসিক সমস্যার আগাম শনাক্তকরণে নতুন উদ্যোগ যাদবপুরের শিক্ষকের
বর্তমান সময়ের দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং হতাশা ক্রমশ বাড়ছে, বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেক সময় এই সমস্যাগুলি চোখে পড়ে না, আর তারই মর্মান্তিক পরিণতি হতে পারে আত্মহত্যার মতো ঘটনা। এমনই এক দুঃখজনক অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক দিগন্ত সাহা তৈরি করেছেন এক অভিনব প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ।
কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী ও প্রাণবন্ত ছাত্র আত্মহত্যা করেন। বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভিতরে ভিতরে তিনি মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই দিগন্তের মনে প্রশ্ন জাগে— কীভাবে আগে থেকে এমন সংকট চিহ্নিত করা সম্ভব?
এই ভাবনা থেকেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং কয়েকজন পড়ুয়ার সহযোগিতায় তৈরি হয় ‘Early Detection of Mental Health’ নামের একটি অ্যাপ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-ভিত্তিক এই অ্যাপের লক্ষ্য হল পড়ুয়াদের মানসিক অবস্থার প্রাথমিক মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সাহায্যের ব্যবস্থা করা।
অ্যাপটি ব্যবহার করতে হলে মোবাইলে সেটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর ব্যবহারকারীকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রশ্নগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে একজনের মানসিক অবস্থা, উদ্বেগের মাত্রা বা হতাশার লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই উত্তর বিশ্লেষণ করে একটি স্কোর নির্ধারণ করে।
দিগন্ত সাহার কথায়, যদি কোনও শিক্ষার্থীর মানসিক ঝুঁকির মাত্রা কম থাকে, তবে তাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ধরা হবে। কিন্তু ঝুঁকি বাড়তে থাকলে অ্যাপটি কাউন্সেলিং, থেরাপি কিংবা প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছেও প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে যাবে।
এই প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. পায়েল তালুকদার এবং এমআর বাঙুর হাসপাতালের ডা. সোনালী চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের পরামর্শে অ্যাপটির মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মানসিক চাপের লক্ষণ ধরা পড়ায় মিউজিক থেরাপি ও অন্যান্য সহায়ক পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁরা অনেকটাই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
দিগন্তের মতে, আত্মহত্যা বা গুরুতর মানসিক সমস্যার আগে সাধারণত কিছু সতর্ক সংকেত দেখা যায়। সেই লক্ষণগুলি যদি প্রযুক্তির সাহায্যে দ্রুত চিহ্নিত করা যায়, তবে বহু তরুণ প্রাণকে বিপদের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। AI-ভিত্তিক এই অ্যাপ হয়তো একদিন হাজার হাজার পড়ুয়ার নীরব কষ্টকে সময়মতো শনাক্ত করে তাদের জীবনে নতুন আশার আলো এনে দেবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?