যাদবপুরের নাম বদলের দাবি শর্বরীর, শিক্ষক-কর্মীদের ‘চিহ্নিত’ করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি রাহুলের

যাদবপুরের নাম বদলের দাবি শর্বরীর! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্ক। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক আলোচনাসভা থেকে যাদবপুরের নাম পরিবর্তনের দাবি তুললেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। একই অনুষ্ঠানে…

September 3, 2026
1 min read

যাদবপুরের নাম বদলের দাবি শর্বরীর!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্ক। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক আলোচনাসভা থেকে যাদবপুরের নাম পরিবর্তনের দাবি তুললেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। একই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষক, অধ্যাপক ও কর্মীর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিংহ।

বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন মঞ্চে ‘জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক ভারত’ বিষয়ক একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। আমন্ত্রিতদের কয়েক জন উপস্থিত না থাকলেও মঞ্চে ছিলেন রাহুল সিংহ এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়। আলোচনার বিষয় জাতীয়তাবাদ হলেও বার বার উঠে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক মতাদর্শের উপস্থিতির প্রসঙ্গ।

রাহুলের অভিযোগ, এক সময় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ‘ভারতবিরোধী শক্তি’ ঢুকে পড়েছে। তাঁর দাবি, এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও কর্মীরও যোগ রয়েছে। তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাহুল বলেন, ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে আসা একটি মাওবাদী গোষ্ঠী ক্যাম্পাসে ঘাঁটি গেড়ে পড়ুয়াদের দিয়ে ‘দেশবিরোধী’ কথা বলানোর চেষ্টা করছে। এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক, কর্মী বা অন্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের তিনি এই বিতর্কের জন্য দায়ী করছেন না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানান রাহুল। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার মুখে মাওবাদী ও নকশালপন্থার বিরোধিতা করলেও বাস্তবে সেই ভূমিকা নেয়নি। পাশাপাশি, যাদবপুর ক্যাম্পাসে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ‘বন্দে মাতরম্’ স্লোগান এবং মিছিল করার ঘটনাকেও তিনি তুলে ধরেন।

অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের দাবি তোলেন শর্বরী। তাঁর বক্তব্য, ঋষি অরবিন্দের সঙ্গে যাদবপুরের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং স্বদেশি আন্দোলনের যোগ রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘ঋষি অরবিন্দ’-এর নামে করার দাবি উঠছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সেই দাবি রাজ্যপাল বা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথাও বলেন শর্বরী।

এই দাবির সমর্থনে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের যাদবপুর ইউনিটের সম্পাদক ভাস্কর সরদারও বক্তব্য রাখেন। তাঁর মতে, ঋষি অরবিন্দের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ হলে তা গর্বের বিষয় হবে।

তবে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে আবুটাও। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গৌতম মাইতির অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে এ ধরনের মন্তব্য করা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের হুঁশিয়ারিও তাঁরা মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *