তৃণমূলের মামলা খারিজ হাই কোর্টে
ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। তৃণমূলের দায়ের করা মামলা খারিজ করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে কোনও বেআইনি দিক নেই।
বিচারপতি কৃষ্ণ রাও তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, গণনার টেবিলে কেন্দ্রীয় কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বৈধ। মামলাকারীর তরফে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা প্রমাণের মতো কোনও তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আদালত আরও জানায়, ভবিষ্যতে যদি ভোট গণনায় কোনও ধরনের কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তা হলে সেই বিষয়টি ‘ইলেকশন পিটিশন’-এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। অর্থাৎ, এখনই এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখেনি আদালত।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন প্রতিটি গণনার টেবিলে অন্তত এক জন করে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে কাউন্টিং সুপারভাইজার বা সহকারী হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের এই দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয় এবং আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে আদালত সেই যুক্তি মানেনি। কমিশনের সিদ্ধান্তকে বৈধ বলেই ঘোষণা করেছে।
এদিকে, রাজ্যে ইতিমধ্যেই দু’দফার ভোট সম্পন্ন হয়েছে— ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। মোট ২৯৪টি আসনের জন্য এ বার ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগের তুলনায় গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমানো হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও সুনিয়ন্ত্রিত রাখা যায়।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। ইভিএম ও স্ট্রংরুমের সুরক্ষায় ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারার জন্য ন্যূনতম ২৪ জন জওয়ান রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, গণনা ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই আদালতের এই রায় কমিশনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল। এখন নজর গণনার দিনের দিকে— যেখানে এই প্রস্তুতির বাস্তব পরীক্ষা হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?