পরিষদীয় দলের পর সংসদেও ভাঙন! তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ কি হাতছাড়া হওয়ার মুখে?

তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ কি হাতছাড়া হওয়ার মুখে? বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তা এবার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল সংসদীয় দলেও। সোমবার দলের ২৮ জন…

June 8, 2026
1 min read

তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ কি হাতছাড়া হওয়ার মুখে?

বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তা এবার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল সংসদীয় দলেও। সোমবার দলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

একই দিনে রাজ্যসভার দুই সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় ও কোয়েল মল্লিক পদত্যাগ করায় পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও এই ভাঙন ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ নিয়ে। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দল গড়েছিলেন, সেই দলের নিয়ন্ত্রণ কি শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতছাড়া হতে পারে?

ভারতীয় রাজনীতিতে এমন নজির নতুন নয়। ১৯৭৮ সালে কংগ্রেসে ভাঙনের পর ইন্দিরা গান্ধীকে পুরনো ‘গাই-বাছুর’ প্রতীক ছেড়ে নতুন করে ‘হাত’ প্রতীক নিয়ে কংগ্রেস (আই) গঠন করতে হয়েছিল। একইভাবে অন্ধ্রপ্রদেশে এন.টি. রামা রাওয়ের দল টিডিপির নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছিল চন্দ্রবাবু নায়ডুর হাতে।

সাম্প্রতিক অতীতে মহারাষ্ট্রেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক ও সাংসদদের সমর্থন নিয়ে একনাথ শিন্দে ‘শিবসেনা’ নাম ও ‘তির-ধনুক’ প্রতীক নিজের গোষ্ঠীর জন্য আদায় করেন। পরে শরদ পওয়ারের প্রতিষ্ঠিত এনসিপির নাম ও প্রতীক ‘ঘড়ি’ও নির্বাচন কমিশন দেয় অজিত পওয়ারের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে।

এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই সেই ঘটনাগুলির সঙ্গে তুলনা করছেন। সূত্রের দাবি, বিদ্রোহী সাংসদদের একাংশ ভবিষ্যতে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়ের পথেও হাঁটতে পারেন। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তাঁদের বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিধানসভায় বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কেরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু লোকসভার বিদ্রোহী শিবির সেই অবস্থান নেয়নি বলেই খবর।

২০২২ সালে শিবসেনা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে ‘আসল দল’ নির্ধারণের ক্ষমতা দিয়েছিল। সেই নজির সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, বিদ্রোহী সাংসদেরা ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করতে পারেন।

তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নির্ভর করবে সাংগঠনিক শক্তি, জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর। কিন্তু এটুকু স্পষ্ট, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন আর শুধু দলের ভেতরের বিষয় নয়; তা রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *