তৃণমূলের পতন, নতুন লড়াইয়ের ইঙ্গিত

তৃণমূলের পতন, নতুন লড়াইয়ের ইঙ্গিত! পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল নিয়ে বাম সমর্থক অভিনেতা-পরিচালক সৌরভ পালোধী এক স্পষ্ট ও কিছুটা তীক্ষ্ণ মতামত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, তৃণমূলের পরাজয় অবশ্যই আনন্দের, তবে তার…

May 6, 2026
1 min read

তৃণমূলের পতন, নতুন লড়াইয়ের ইঙ্গিত!

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল নিয়ে বাম সমর্থক অভিনেতা-পরিচালক সৌরভ পালোধী এক স্পষ্ট ও কিছুটা তীক্ষ্ণ মতামত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, তৃণমূলের পরাজয় অবশ্যই আনন্দের, তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হল— এখন শুরু হতে চলেছে সরাসরি মতাদর্শের লড়াই।

তিনি মনে করিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে সরাতে গিয়ে এক সময় মানুষ তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিল, যা তখনকার প্রেক্ষিতে ভুল ছিল না। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সেই রাজনৈতিক পথই পরবর্তীতে বিজেপির জন্য বাংলায় জায়গা তৈরি করে দেয়। তাঁর ভাষায়, “খাল কাটা হয়েছিল, কুমির ঢুকবেই”— অর্থাৎ রাজনৈতিক শূন্যতা বা সুযোগ তৈরি হলে নতুন শক্তি উঠে আসা স্বাভাবিক।

‘এক আসন’— প্রতীকী প্রত্যাবর্তন

বামেদের জন্য ২০২৬ সালের ফলাফল সংখ্যায় ছোট হলেও তা প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি। ২০১১-র পতন, ২০১৬-র ব্যর্থতা, ২০২১-এ শূন্য— এই দীর্ঘ পতনের পর একটি আসন ফিরে পাওয়া তাঁদের কাছে নতুন শুরু।

বিজেপি বনাম বাম— মূল সংঘর্ষ

ভারতীয় জনতা পার্টি-র উত্থানকে তিনি মতাদর্শগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তাঁর আপত্তি মূলত ধর্মীয় স্লোগান ও রাজনীতির মিশ্রণ নিয়ে। “জয় শ্রীরাম” বা অন্য ধর্মীয় উচ্চারণকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতাকে তিনি বিপজ্জনক বলে মনে করেন। তাঁর মতে, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় হওয়া উচিত, রাজনৈতিক বিভাজনের হাতিয়ার নয়।

সহাবস্থানের প্রশ্ন

পালোধীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে বাংলার পুরনো সামাজিক সংস্কৃতির কথা— যেখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সবাই নিজ নিজ উৎসব পালন করতেন, কিন্তু সহাবস্থান বজায় থাকত। তিনি বিশ্বাস করেন, সেই পরিবেশ ফেরানো সম্ভব, তবে তার জন্য রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে বামেদের শক্তিশালী হওয়া জরুরি।

‘সমর্থন’ বিতর্কে ভিন্ন মত

অনেকে অভিযোগ করেন, বাম ভোটের একাংশ বিজেপির দিকে যাওয়াতেই এই ফল। কিন্তু পালোধী এই ব্যাখ্যাকে সরলীকৃত বলে মনে করেন। তাঁর মতে, ভোটাররা পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন— কখনও তৃণমূলকে হারাতে, কখনও অন্য কারণে। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার, দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সুযোগসন্ধান

তিনি আরও ইঙ্গিত করেছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই অবস্থান বদলাচ্ছেন— বিশেষ করে টালিগঞ্জের কিছু অংশ। তাঁর মতে, কিছু মানুষ সব সময় ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সবাই এক রকম নন— কিছু মানুষ এখনও মতাদর্শে অটল।

শেষ কথা

পালোধীর সারকথা— তৃণমূলের বিদায় তাঁর কাছে স্বস্তির, কিন্তু তার পরের লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ। এখন সরাসরি মতাদর্শের সংঘর্ষ— বাম বনাম বিজেপি। তাঁর বিশ্বাস, যদি কোনও দল সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পথে যায়, বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন তা মেনে নেবে না।

এই অবস্থায় রাজ্যের রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ে ঢুকেছে— যেখানে ক্ষমতার বদলের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে আদর্শের সংঘর্ষ।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *