বুথমুখী মানুষের ঢল, নজির ভাঙা ভোট— প্রথম দফার ফল কোন দিকে ইঙ্গিত করছে?

বুথমুখী মানুষের ঢল, নজির ভাঙা ভোট! পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় এক নজিরবিহীন চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে ভোটদানের হার প্রায় ৯৩ শতাংশ ছুঁয়েছে— যা শুধু রাজ্যেই নয়, সারা দেশের…

April 24, 2026
0 min read

বুথমুখী মানুষের ঢল, নজির ভাঙা ভোট!

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় এক নজিরবিহীন চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে ভোটদানের হার প্রায় ৯৩ শতাংশ ছুঁয়েছে— যা শুধু রাজ্যেই নয়, সারা দেশের নির্বাচন ইতিহাসেও বিরল বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫২টি আসনে এই বিপুল ভোটদানের হার ২০১১ ও ২০২১ সালের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, বীরভূম, জলপাইগুড়ি— প্রায় সব জেলাতেই ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা স্পষ্টভাবে বোঝাচ্ছে যে ভোটারদের অংশগ্রহণ এ বার অনেক বেশি সক্রিয় ছিল।

এই অস্বাভাবিক উচ্চ ভোটদানের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। এই প্রক্রিয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে, যার ফলে মোট ভোটারের সংখ্যা কমেছে। কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে ভোট দিতে আসা মানুষের সংখ্যা। অনেকের ধারণা, নাম কাটা যাওয়ার আশঙ্কায় বহু মানুষই কাজকর্ম ছেড়ে, এমনকি ভিন্‌রাজ্য থেকে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন নিজেদের অধিকার বজায় রাখতে। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড় সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত দেয়।

তবে এই বিপুল ভোট কার পক্ষে যাবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। প্রচলিত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, বেশি ভোট পড়লে তা সাধারণত ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যায়। কিন্তু এর উল্টো উদাহরণও রয়েছে— অতীতের কিছু নির্বাচনে উচ্চ ভোটদানের হার শাসক দলের পক্ষেই গিয়েছে। ফলে এ বারও ফলাফল কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। শাসকদল দাবি করছে, এসআইআর নিয়ে মানুষের ক্ষোভ থেকেই এই বিপুল ভোট পড়েছে, যা তাদের পক্ষেই যাবে। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছে, পরিবর্তনের ইচ্ছাই মানুষকে বুথমুখী করেছে।

সংখ্যার বিচারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল— ২০২১ সালে যেখানে এই আসনগুলিতে প্রায় ৩.১৪ কোটি মানুষ ভোট দিয়েছিলেন, সেখানে এ বার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.২৪ কোটিতে, যদিও মোট ভোটারের সংখ্যা কমেছে। অর্থাৎ, অংশগ্রহণের হার যেমন বেড়েছে, তেমনই ভোটদানের ইচ্ছাও স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অশান্তির দিক থেকেও প্রথম দফা তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ছিল, যদিও কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর বা বীরভূমে। কোথাও রাজনৈতিক সংঘর্ষ, কোথাও প্রার্থীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও ইভিএম গোলমাল নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবুও নির্বাচন কমিশনের দাবি, সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ ছিল।

সব মিলিয়ে, প্রথম দফার এই বিপুল ভোটদানের হার রাজনীতির সমীকরণকে অনেকটাই বদলে দিতে পারে। তবে এই ভোটের আসল বার্তা কী— তা স্পষ্ট হবে আগামী ৪ মে ফল প্রকাশের দিনেই। ততদিন পর্যন্ত এই নজিরবিহীন ভোটই রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *