ভোট এলেও প্রচারহীন বেলঘরিয়ার সেই পাড়া!
শহরের এত কাছে, তবু যেন মানচিত্রের বাইরে! বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের এক কোণে রয়েছে এমনই এক অদ্ভুত এলাকা— বেলঘরিয়ার একটি ছোট্ট ত্রিভুজ অংশ, যা কার্যত তিন দিক থেকেই ঘেরা কামারহাটি কেন্দ্র দ্বারা। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন এক ‘দ্বীপ’, যেখানে ভোট আসে, কিন্তু ভোটের প্রচার পৌঁছয় না।
ডানলপ মোড় পেরিয়ে বিটি রোড ধরে একটু এগোলেই নীলগঞ্জ রোড। সেখান থেকে ফিডার রোড ঘিরে তৈরি হয়েছে এই ত্রিভুজাকৃতি এলাকা। চারপাশে শহুরে সুযোগ-সুবিধা— রাস্তা, দোকান, হাসপাতাল, বাজার— সবই আছে। কিন্তু ভোটের সময় এলে চিত্রটা বদলে যায়। ব্যানার নেই, পোস্টার নেই, দেওয়াল লিখন নেই— এমনকি প্রার্থীদের পদচারণাও নেই।
এই অংশটি প্রশাসনিকভাবে কামারহাটি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড হলেও, পড়ে বরাহনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ফলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে— কামারহাটির প্রার্থীরা ভাবেন এটি তাঁদের এলাকা নয়, আর বরাহনগরের প্রার্থীদের অনেকেই কার্যত ‘উপেক্ষা’ করেন এই অংশটিকে। ফলত, ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়তে আসেন না কেউই।
এলাকার বাসিন্দাদের কথায়, একসময় প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি আসতেন। কিন্তু গত এক দশকের বেশি সময় ধরে সেই চিত্র প্রায় উধাও। মাঝে মধ্যে বিটি রোডে মিছিল বা রোডশো দেখা গেলেও, এই ছোট্ট পাড়ায় তার কোনও ছোঁয়া লাগে না। ভোটার স্লিপ দিতেও অনেক সময় রাজনৈতিক কর্মীরা আসেন না— এ বারও নাকি একটি মাত্র দল সেই দায়িত্ব পালন করেছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, লোকসভা বা পুরসভা নির্বাচনে কিন্তু এমন বঞ্চনার শিকার হতে হয় না এখানকার মানুষকে। তখন প্রার্থীরা আসেন, প্রচার হয়, যোগাযোগ থাকে। কিন্তু বিধানসভা ভোট এলেই যেন এই এলাকা ‘অদৃশ্য’ হয়ে যায়।
বাসিন্দাদের মতে, এর একটি কারণ হতে পারে প্রার্থীদের অচেনা হওয়া— অনেক সময় বাইরের প্রার্থী হওয়ায় তাঁরা এলাকার এই বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন। আবার অনেকে মনে করেন, অল্পসংখ্যক ভোটার থাকার কারণেও রাজনৈতিক দলগুলি আগ্রহ হারায়।
ফলত, নির্বাচনের উত্তাপ চারপাশে থাকলেও এই পাড়ায় তা পৌঁছয় না। রাজনৈতিক কোলাহল যেন পাশ কাটিয়ে চলে যায়। সব মিলিয়ে, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবের সময়েও এই ছোট্ট অঞ্চলটি থেকে যায় প্রান্তিক— কার্যত এক ‘নির্বাচনী দ্বীপ’।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?