সকালেই উত্তেজনা: চেতলা থেকে খিদিরপুর, ভোটের নজরে গোটা বাংলা

চেতলা থেকে খিদিরপুর, ভোটের নজরে গোটা বাংলা! পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হতেই সকাল থেকেই একের পর এক ঘটনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ভোটের আবহে মাঠে নেমেছেন শাসক ও বিরোধী শিবিরের…

April 29, 2026
0 min read

চেতলা থেকে খিদিরপুর, ভোটের নজরে গোটা বাংলা!

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হতেই সকাল থেকেই একের পর এক ঘটনায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ভোটের আবহে মাঠে নেমেছেন শাসক ও বিরোধী শিবিরের প্রথম সারির নেতারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকাল সকাল চেতলা এলাকা ঘুরে দেখেন, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছে যান খিদিরপুরে। একই সঙ্গে ভোট পর্যবেক্ষণে ফলতার দিকে রওনা দেন পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা।

ভোট শুরু হতেই বেশ কিছু জায়গায় সমস্যার খবর সামনে আসে। বারুইপুর পূর্বের একটি বুথে ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়ায় ভোটারদের প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একইভাবে নবদ্বীপেও ভোট শুরু হওয়ার আগেই ইভিএম বিকল হয়ে যায়, ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে ভোট।

কলকাতার শ্যামপুকুরে বুথের কাছে জমায়েত ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে এবং এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী শশী পাঁজা এবং বিজেপির প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী মুখোমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে, মেটিয়াবুরুজে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে, বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোট নিয়ে উৎসাহ থাকলেও কিছু জায়গায় উত্তেজনাও দেখা যায়। রাসবিহারী কেন্দ্রে কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের বুথ এজেন্টকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

ভোটের সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সকলকে বেশি সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, বিশেষ করে মহিলা ও যুব সমাজকে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।

এদিকে, ভোটের আগের রাত থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়েছিল। সিঙ্গুরে তৃণমূল প্রার্থী বেচারাম মান্না থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। অন্যদিকে কুলতলিতে বিজেপি প্রার্থী মাধবী মহলদার শাসক দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে নামেন। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নদিয়ার চাপড়ায় বুথে ঢোকা নিয়ে বিজেপি এজেন্টকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, পাশাপাশি মারধরের ঘটনাও সামনে এসেছে। আবার কিছু জায়গায় ভিভিপ্যাট যন্ত্র কাজ না করায় ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে।

ভোটের দিন সকালে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী ভোট দিতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেন। তিনি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটের পক্ষে মত দেন।

সব মিলিয়ে, ভোটের শুরু থেকেই একদিকে যেমন উৎসবের আবহ, অন্যদিকে তেমনই উত্তেজনা, অভিযোগ আর প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ— সবকিছুর মিশেলে জমে উঠেছে বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোট। এখন দেখার, দিনের শেষে পরিস্থিতি কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে এবং গণতন্ত্রের এই উৎসব কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *