প্রাণীর অধিকার নিয়ে সরব Rupali Ganguly!
জয়পুরের এক মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রাণীর অধিকার। একটি হাতির গায়ে গোলাপি রং করে ফোটোশুট করার পর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অনেকেই। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী Rupali Ganguly। তিনি সরাসরি চিঠি লিখেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে।
ঘটনাটি ঘটে Jaipur-এ। ‘চঞ্চল’ নামে একটি হাতির সারা শরীরে গোলাপি রং লাগিয়ে তার উপর এক মডেলকে বসিয়ে ফোটোশুট করা হয়। এই শুটের কয়েক দিনের মধ্যেই হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। যদিও ফোটোগ্রাফার Julia Buryuleva দাবি করেছেন, হাতির শরীরে ব্যবহৃত রং ছিল ভেষজ এবং ক্ষতিকর নয়—তবুও বিতর্ক থামেনি।
এই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পশুপ্রেমীদের পাশাপাশি People for the Ethical Treatment of Animals-এর সমর্থকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র বিনোদন বা শৌখিনতার জন্য একটি প্রাণীকে এভাবে ব্যবহার করা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।
Rupali Ganguly তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনা শুধু ভারতের মানুষকেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও ক্ষুব্ধ করেছে। তাঁর প্রশ্ন—যেখানে আজ প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তবসম্মত ভিজ্যুয়াল তৈরি করা সম্ভব, সেখানে কেন জীবন্ত প্রাণীদের ব্যবহার করে তাদের কষ্ট দেওয়া হবে?
প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র কাছে তাঁর বিশেষ আবেদন—এই ধরনের ফোটোশুট, পর্যটন বা বিনোদনের জন্য হাতি বা অন্যান্য বন্যপ্রাণীর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হোক। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন Indonesia-র, যেখানে পর্যটকদের জন্য কৃত্রিম বা প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়।
ভারতের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে এখনও হাতির পিঠে চড়ার মতো কার্যকলাপ জনপ্রিয়। কিন্তু এই ধরনের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—এই আনন্দের মূল্য কি একটি প্রাণীর যন্ত্রণা হতে পারে?
এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রাণীদের সঙ্গে আমাদের আচরণ কতটা মানবিক হওয়া উচিত। শুধু আইন নয়, সচেতনতা ও সহানুভূতির মাধ্যমেই এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোখা সম্ভব।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না