৬০ লক্ষের মধ্যে ৩৬ লক্ষ নিষ্পত্তি!
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে জোর তৎপরতা চলছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছে, ‘বিবেচনাধীন’ বা অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩৬ লক্ষের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। বিকেল পর্যন্ত বিচারকরা যে তথ্য জমা দেবেন, সেটিই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে এই তথ্য চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করতে আরও ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
📊 কী চলছে এই প্রক্রিয়ায়?
ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে এসআইআর (Special Intensive Revision)। এখানে যেসব ভোটারের তথ্য নিয়ে সন্দেহ বা অসঙ্গতি রয়েছে, তাদের ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে এবং শুনানির মাধ্যমে যাচাই চলছে।
- মোট বিবেচনাধীন ভোটার: প্রায় ৬০ লক্ষ
- ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি: ৩৬ লক্ষ
- বিচারকের সংখ্যা: ৭০৫ জন
কমিশন জানিয়েছে, প্রয়োজনে প্রায় প্রতিদিনই নতুন তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে, যাতে প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
⚖️ রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্ক
এই তালিকা ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপও কম নয়। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে, এক সময় কমিশনের ওয়েবসাইটে সমস্ত ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ দেখানো নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।
এই বিতর্কের মাঝেই কমিশন স্পষ্ট করেছে— যে সব ভোটারের তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে, তাদের নাম ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে এবং ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে।
📉 কত নাম বাদ পড়েছে?
এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—
- খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে বাদ পড়েছে: ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ নাম
- প্রথম অতিরিক্ত তালিকা থেকেই বাদ: প্রায় ১২ লক্ষ নাম
এই সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে কমিশনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে চালানো হচ্ছে।
🧾 ভোটার সংখ্যার চিত্র
এসআইআর শুরুর আগে রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৬ কোটি। সংশোধনের পর প্রথম চূড়ান্ত তালিকায় তা দাঁড়ায় প্রায় ৭.০৪ কোটি। এর মধ্যে এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
🔍 সামনে কী?
কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া চলবে ধাপে ধাপে। যত দ্রুত সম্ভব সব বিবেচনাধীন ভোটারের নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তাই আগামী কয়েক দিনে আরও একাধিক তালিকা প্রকাশ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বৃহৎ প্রক্রিয়া শুধু প্রশাসনিক কাজ নয়— এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ, নাগরিক অধিকার এবং স্বচ্ছতার প্রশ্ন। এখন নজর শুক্রবারের তালিকার দিকে, যা এই জটিল সমীকরণে নতুন দিক দেখাতে পারে।