ভোটের টানে ঘরে ফেরা: আতঙ্কে পরিযায়ীদের ঢল, স্টেশন-বাসস্ট্যান্ডে উপচে পড়া ভিড়

আতঙ্কে পরিযায়ীদের ঢল, স্টেশন-বাসস্ট্যান্ডে উপচে পড়া ভিড়! ভোট মানেই শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়— অনেকের কাছে তা নিজের পরিচয়, অধিকার আর অস্তিত্বের প্রশ্ন। এ বার পশ্চিমবঙ্গের ভোটকে ঘিরে সেই বাস্তব ছবিটাই…

April 23, 2026
1 min read

আতঙ্কে পরিযায়ীদের ঢল, স্টেশন-বাসস্ট্যান্ডে উপচে পড়া ভিড়!

ভোট মানেই শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়— অনেকের কাছে তা নিজের পরিচয়, অধিকার আর অস্তিত্বের প্রশ্ন। এ বার পশ্চিমবঙ্গের ভোটকে ঘিরে সেই বাস্তব ছবিটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট শুরুর আগেই ভিন্‌ রাজ্য থেকে দলে দলে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা।

হাওড়া স্টেশন এবং শিয়ালদহ স্টেশন— দুই প্রধান রেলস্টেশনেই গত কয়েক দিনে নজিরবিহীন ভিড় দেখা গেছে। পিঠে ব্যাগ, হাতে সামান্য জিনিস— হাজার হাজার শ্রমিক নিজেদের জেলায় ফেরার জন্য ট্রেনে উঠতে হুড়োহুড়ি করছেন। কারও চোখে ক্লান্তি, কারও মুখে উদ্বেগ— কিন্তু সবার লক্ষ্য একটাই, ভোট দেওয়া।

এই হিড়িকের নেপথ্যে রয়েছে এক ধরনের ভয়। অনেকেরই ধারণা, ভোট না দিলে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর এই আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

মহারাষ্ট্রে কাজ করা মুর্শিদাবাদের এক শ্রমিক জানান, পরিবারের কয়েক জনের নাম ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাই তিনি আর ঝুঁকি নিতে চাননি। নিজের উপার্জনের ক্ষতি মেনে নিয়েই বাড়ি ফিরেছেন শুধুমাত্র ভোট দিতে।

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, একই ছবি দেখা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গেও। শিলিগুড়ি-র বাস টার্মিনাসে জমেছে বিপুল ভিড়। কিন্তু সেখানে তৈরি হয়েছে অন্য সমস্যা— পর্যাপ্ত বাস নেই। অভিযোগ, ভোটের কাজে বহু বাস তুলে নেওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের জন্য পরিবহণে টান পড়েছে।

ফলে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই বাস পাচ্ছেন না। ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন পরিযায়ীরা। কোথাও কোথাও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। অনেকেই বলছেন, এত কষ্ট করে রাজ্যে ফিরেও যদি বাড়ি পৌঁছতে না পারেন, তবে সেই দুঃখের সীমা থাকে না।

মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর— এই জেলাগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঢল সবচেয়ে বেশি। কেউ ট্রেনের সাধারণ কামরায় ঠাসাঠাসি করে আসছেন, কেউ আবার অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাস ভাড়া করছেন। অনেক ক্ষেত্রে রিজার্ভেশন থাকলেও ভিড়ের চাপে ট্রেনে ওঠাই সম্ভব হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতি শুধু যাতায়াতের সমস্যার নয়, মানসিক চাপেরও। অনেকেরই মনে হচ্ছে, ভোট না দিলে নাগরিক পরিচয়ই সংকটে পড়তে পারে। আধার, রেশন— সব কিছু নিয়েই অনিশ্চয়তার ছায়া।

তবে এর মধ্যেই কিছু মানুষ আবার অন্যভাবে দেখছেন বিষয়টা। তাঁদের মতে, ভোট দেওয়া যেমন দায়িত্ব, তেমনই বাড়ি ফেরা মানে পরিবারের সঙ্গে দেখা— দুইয়ের মিশ্রণও রয়েছে এই যাত্রায়।

সব মিলিয়ে এ বারের ভোট শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এক গভীর সামাজিক বাস্তবতাও সামনে এনে দিয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের এই ঢল দেখিয়ে দিচ্ছে— ভোট তাদের কাছে কেবল অধিকার নয়, বরং নিজের অস্তিত্ব রক্ষার প্রতীক।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *