বদলে যাওয়া ইমরানের গল্প!
২৪ মার্চ, জন্মদিন ইমরান হাশমী-র। এক সময় বলিউডে তাঁকে ‘সিরিয়াল কিসার’ ট্যাগে বেঁধে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পরিচয়ের গণ্ডি ভেঙে আজ তিনি প্রমাণ করেছেন—তিনি শুধু বিতর্কিত ইমেজের নায়ক নন, একজন দক্ষ অভিনেতাও।
ক্যারিয়ারের শুরুতে ইমরানের ছবির নির্দিষ্ট একটা ধাঁচ ছিল। মার্ডার, মার্ডার ২, জন্নত কিংবা আশিক বানায়া আপনে— এসব ছবিতে তাঁর রোম্যান্টিক ও বোল্ড উপস্থিতিই বেশি আলোচনায় এসেছে। দর্শকের একাংশ তাঁকে নির্দিষ্ট ঘরানার অভিনেতা হিসেবেই দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
তবে এই চেনা ইমেজের বাইরে বেরিয়ে আসার পথটা সহজ ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়, বিশেষ করে সন্তানের অসুস্থতার কারণে ইমরান কিছুটা সময়ের জন্য নিজেকে গুটিয়ে নেন। সেই বিরতিই তাঁর জীবনে এক বড় মোড় আনে।
এরপর আসে করোনা মহামারির সময়। অনেকের মতোই থমকে গিয়েছিল জীবন, কিন্তু ইমরান সেই সময়টাকেই নিজের জন্য নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই সময় তিনি নিজের জীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। নিয়মিত শরীরচর্চা, চিত্রনাট্য পড়া, মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত করা— সব কিছুই চলছিল নীরবে।
তাঁর কথায়, সাফল্য আর ব্যর্থতা— দুটোই মানুষকে বিপথে নিতে পারে। তাই মাথা ঠান্ডা রেখে এগিয়ে চলাই সবচেয়ে জরুরি। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিটি অভিনেতার জীবনেই উত্থান-পতন থাকবেই, কিন্তু খারাপ সময়ে ভেঙে পড়া মানেই নিজের কেরিয়ারকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া।
এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে নতুন করে পথ দেখায়। বদলে যায় তাঁর ছবির নির্বাচনও। চেহরে-তে অমিতাভ বচ্চন-এর সঙ্গে কাজ করা হোক বা অক্ষয় কুমার-এর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা— প্রতিটি পদক্ষেপে ইমরান নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করতে শুরু করেন।
আজকের ইমরান অনেক বেশি পরিণত, অনেক বেশি সচেতন একজন শিল্পী। তিনি জানেন, শুধু জনপ্রিয়তা নয়—দীর্ঘস্থায়ী সম্মান পেতে হলে অভিনয়ের গভীরতাও জরুরি।
এই বদলে যাওয়া ইমরানের গল্পটা তাই শুধু একজন অভিনেতার নয়, বরং এক মানুষের—যিনি সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন।