‘পারফর্ম না করলে জায়গা নেই’: প্রার্থী বাছাইয়ে কড়া বার্তা তৃণমূলের

প্রার্থী বাছাইয়ে কড়া বার্তা তৃণমূলের! আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে একেবারে নতুন বার্তা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিল—“কাজ করো, নইলে সরে দাঁড়াও।” সেই…

March 18, 2026
1 min read

প্রার্থী বাছাইয়ে কড়া বার্তা তৃণমূলের!

আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে একেবারে নতুন বার্তা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিল—“কাজ করো, নইলে সরে দাঁড়াও।” সেই নীতিতেই এবারের প্রার্থিতালিকায় বড়সড় রদবদল দেখা গেল।

দলের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এক ধাক্কায় বাদ পড়েছেন ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ক—যা মোটের প্রায় ৩৩ শতাংশ। পাশাপাশি, ১৫ জন বিধায়ককে টিকিট দেওয়া হলেও তাঁদের পুরনো কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নতুন কেন্দ্রে লড়তে পাঠানো হয়েছে। তৃণমূলের ইতিহাসে এমন বড় পরিবর্তন আগে দেখা যায়নি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় মাপকাঠি ছিল গত পাঁচ বছরের কাজের হিসাব বা ‘পারফরম্যান্স’। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রতিটি আসন ধরে ধরে বিধায়কদের কাজ, জনসংযোগ, ভাবমূর্তি—সব কিছু খতিয়ে দেখা হয়েছে। যেখানে ঘাটতি ধরা পড়েছে, সেখানে কোনও রকম আপস করা হয়নি।

এই নীতির পেছনে রয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি দীর্ঘ দিন ধরেই সংগঠনের মধ্যে ‘পারফর্ম অর পেরিশ’ বার্তা দিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, শুধু ঘনিষ্ঠতা নয়, কাজই হতে হবে আসল পরিচয়। আর সেই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়েছে এবারের প্রার্থিতালিকায়।

এই ভোট তৃণমূলের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর স্বাভাবিকভাবেই ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা শাসক-বিরোধী মনোভাব কিছুটা তৈরি হয়েছে। তার উপর রয়েছে বিজেপির আক্রমণাত্মক প্রচার। ফলে এই কঠিন পরীক্ষায় এমন প্রার্থীই বেছে নিতে চেয়েছে দল, যারা মাঠে নেমে লড়াই করার মতো প্রস্তুত।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল বিজেপির তুলনায় অনেক বেশি আসন পেলেও বিশ্লেষণে উঠে আসে, শহর ও আধা-শহর এলাকায় দলের ভিত কিছুটা নড়বড়ে হয়েছে। সেই কারণেই দেখা যাচ্ছে, এবারের তালিকায় ওই সব এলাকা থেকেই বেশি সংখ্যক বিধায়ক বাদ পড়েছেন।

যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক পরিচিত মুখ এবং অভিজ্ঞ নেতা-নেত্রী। এমনকি কয়েক জন মন্ত্রীও টিকিট পাননি। অন্য দিকে, প্রায় ১৫০ জন বিধায়ক আবারও সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে ১৩৫ জনকে তাঁদের পুরনো আসনেই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হয়নি—যেখানে দলের আস্থা বজায় রয়েছে।

এ ছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবদলও নজর কেড়েছে। এর উদ্দেশ্য, নতুন জায়গায় প্রার্থীদের নতুন করে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা এবং পুরনো ভাবমূর্তির প্রভাব কাটানো।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তারা প্রতিটি কেন্দ্রে সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট তৈরি করেছে—বিধায়কদের কাজকর্ম, জনমত, সংগঠনের শক্তি—সব কিছু বিচার করে। জানা যাচ্ছে, প্রতিটি আসনের জন্য একাধিক নাম বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সব মিলিয়ে, এবারের প্রার্থিতালিকা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—দলে জায়গা ধরে রাখতে হলে কাজের বিকল্প নেই। যাঁরা ভাল কাজ করেছেন, তাঁদের জন্য দরজা খোলা। আর যাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন, তাঁদের জায়গা নিতে প্রস্তুত নতুন মুখ।

তৃণমূলের এই কৌশল ভোটের ময়দানে কতটা ফল দেয়, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই লড়াইয়ে ‘পারফরম্যান্স’ই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

ধীরে ধীরে কমান চিনির অভ্যাস: স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর কয়েকটি সহজ উপায়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *