জোড়াফুল আপাতত ‘ফ্রিজ়’!
তৃণমূলের পুরনো নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহার করতে পারবে না কোনও শিবিরই। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে নতুন নাম—‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। সেই সঙ্গে নতুন নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। কমিশনের এই ব্যবস্থা আপাতত আসন্ন উপনির্বাচনগুলির জন্য প্রযোজ্য।
নতুন পরিচয় সামনে আসার পরই মমতা শিবিরের তরফে প্রতীকটি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দলের নেতা, সাংসদ, বিধায়ক, পদাধিকারী এবং জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের সমাজমাধ্যম-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে নতুন লোগো ও প্রতীক প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
নতুন লোগোর কেন্দ্রে রয়েছে ফুটবল খেলোয়াড়ের ছবি। তার চারপাশে নীল পটভূমির উপর সাদা অক্ষরে লেখা ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। লোগোয় নীলের পাশাপাশি গেরুয়া, সাদা এবং সবুজ রঙের ব্যবহারও রয়েছে। নতুন প্রতীকটি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে যাতে বিভ্রান্তি না তৈরি হয়, সে জন্য দলীয় স্তরে প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধ। ১৭ সেপ্টেম্বরের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের পুরনো ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক আপাতত স্থগিত রাখে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই পক্ষই নিজেদের আসল দল হিসেবে দাবি করায় বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরের দিন, ১৮ সেপ্টেম্বর, দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করে কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী পেল ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক। অন্য গোষ্ঠী পেল ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম বা এনভেলপ প্রতীক।
এই অন্তর্বর্তী পরিচয়কে সামনে রেখেই আগামী ৬ অক্টোবরের পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে নতুন নাম ও প্রতীক ভোটারদের কাছে দ্রুত পরিচিত করে তোলার বিষয়টি মমতা শিবিরের প্রচারের অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছে।
নতুন প্রতীক হিসেবে ফুটবল খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার বিষয়টিও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে ফুটবলের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মমতা শিবিরের ব্যবহৃত ‘খেলা হবে’ স্লোগানের সঙ্গে এই প্রতীকের একটি রাজনৈতিক যোগসূত্রের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতীকটির বরাদ্দ নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের অংশ।
তবে পুরনো নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের ভবিষ্যৎ এখনও চূড়ান্ত নয়। কমিশনের এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার পর মূল দল, নাম এবং প্রতীকের দাবি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। তাই আপাতত নতুন নাম ও ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক নিয়েই ভোটের মাঠে নামতে হচ্ছে মমতা শিবিরকে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।