তৃণমূল নেতার বাড়িতে পুলিশ, হুঁশিয়ারি ঘিরে বিতর্ক!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুর কর্মসূচির আগে হুগলিতে একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তারই মধ্যে রিষড়ার প্রাক্তন পুরভাইস চেয়ারম্যান তথা কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা জাহিদ হাসান খানের বাড়িতে পুলিশি অভিযান ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, বাড়িতে জাহিদ বা তাঁর ছেলে শাহিদ কেউ না থাকলেও পুলিশ তাঁদের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণের কথা বলে এবং কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেয়।
মঙ্গলবার আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে জাহিদের বাড়িতে যায় পুলিশ। জাহিদ এবং তাঁর ছেলে শাহিদের খোঁজ করা হয়। পরিবারের সদস্যেরা জানান, দু’জনের কেউই বাড়িতে নেই। এর পরেও পুলিশকর্মীদের বাড়ির সামনে হাঁকডাক করতে শোনা যায়। শাহিদকে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।
অভিযোগ, এক পুলিশ আধিকারিককে বলতে শোনা যায়, ‘‘হর দিন আয়েগা। জিনা হারাম হো জায়েগা। নীন্দ ভি হারাম হো জায়েগা।’’ পুলিশের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পুলিশের দাবি, শাহিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে। সেই ওয়ারেন্ট কার্যকর করতেই তাঁকে আটক করার জন্য পুলিশ গিয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনার সময়কালও রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী শুক্রবার শ্রীরামপুরে কর্মসূচি করতে চান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ সেই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ তুলে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।
এর মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যায় হুগলির বিভিন্ন জায়গা থেকে কালীঘাট তৃণমূলের কয়েক জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। জাহিদের বাড়ির সামনে থেকেও তাঁর চার অনুগামীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ডানকুনিতেও দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ, মমতার কর্মসূচির আগে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভয় দেখাতেই পুলিশকে ব্যবহার করছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘পুলিশি সৌজন্যে জঙ্গলরাজ চলছে।’’ তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি ঘিরে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হলেও তাতে কোনও লাভ হবে না।
অন্য দিকে, পুলিশের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নয়, পুরনো মামলার ভিত্তিতেই গ্রেফতারি চলছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, খুনের চেষ্টা-সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ফলে এক দিকে পুরনো মামলায় গ্রেফতারি এবং ওয়ারেন্ট কার্যকরের পুলিশের দাবি, অন্য দিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ—দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে মমতার শ্রীরামপুর কর্মসূচির আগে হুগলির রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।