হরমুজ় পেরিয়ে ভারতের পথে এলপিজি জাহাজ!
হরমুজ় প্রণালী ঘিরে টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের জন্য এল এক বড় স্বস্তির খবর। এলপিজি বোঝাই একটি ভারতগামী জাহাজ কোনও বাধা ছাড়াই হরমুজ় পেরিয়েছে। খবর অনুযায়ী, জাহাজটি শুক্রবার ইরানের স্থানীয় সময় দুপুরে ওই কৌশলগত জলপথ অতিক্রম করেছে। আরও একটি ভারতগামী জাহাজও শীঘ্রই একই পথে আসতে পারে।
এই ঘটনার তাৎপর্য শুধু একটি জাহাজ পৌঁছনোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ় প্রণালী কয়েক দিন ধরে অশান্ত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে কার্যত অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তার জেরে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছিল। কারণ, দেশের এলপিজি আমদানির বড় অংশই পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরশীল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতগামী দু’টি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার— Shivalik এবং Nanda Devi—-কে পারাপারের অনুমতি দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই প্রণালী পেরিয়েছে।
এই স্বস্তির ইঙ্গিতের আগেই ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ভারত ও ইরান বন্ধুপ্রতিম দেশ, তাই ভারতগামী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতে তারা সাহায্য করবে। তাঁর কথায়, ভারতের মানুষের কষ্ট ইরানের কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সুর শোনা যায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও, যেখানে ফাথালি বলেন, “আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব সমস্যার সমাধান করতে।”
এই কূটনৈতিক বার্তার পেছনে দিল্লির তৎপরতাও স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের প্রধান লক্ষ্য ছিল পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পথ সচল রাখা, কারণ সংঘাতের জেরে বহু ভারতীয় জাহাজও ওই অঞ্চলে আটকে পড়েছিল।
হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। তাই সেখানে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ তৈরি করে। ভারতের ক্ষেত্রেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে, বিশেষ করে রান্নার গ্যাস ও জ্বালানি আমদানিতে। ভারত সরকার যদিও বারবার জানিয়েছে, আতঙ্কের কারণ নেই, তবু সরবরাহে ধাক্কার আশঙ্কায় হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে শিল্পক্ষেত্র— বহু জায়গাতেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, এই জাহাজের হরমুজ় পার হওয়া শুধু একটি পরিবহণ-সংক্রান্ত খবর নয়, বরং কূটনীতি, আঞ্চলিক সংকট এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। আপাতত এটুকু বলা যায়, ভারতগামী এলপিজি জাহাজের নিরাপদ যাত্রা দেশের বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?